বদলীর পরও একই কর্মস্থলে ফরেস্ট রেঞ্জার সুমন মিয়া,মানছেনা উপর মহলের অব্যহতির নির্দেশ

ময়মনসিংহ বনবিভাগ- অব্যহতির নির্দেশনার পরও একই রেঞ্জে তিনি -

সৈয়দ আককাস উদদীন –

হঠাৎ করে ভেঙে পড়ছে বন বিভাগের শৃঙ্খলা, মানা হচ্ছেনা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দেয়া কোন আদেশ কিংবা নির্দেশ। ফলে ভেঙে পড়েছে বন বিভাগের অভ্যান্তরীণ চেইন অব কমান্ড,যার কারণে দূর্নীতি ও বদনাম এবং জনগণের আস্থাহীনতায় পরিণত হতে যাচ্ছে এই বনবিভাগ। এই সুযোগে কিছু ভুঁইফোড় অনলাইন পেজ কিংবা পোর্টাল দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই বনবিভাগকে নিয়ে কুৎসা রটাতে সুযোগ পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবী।

যেমন ময়মনসিংহ বনবিভাগের আওতাধীন বালিজুরী রেঞ্জের ফরেস্ট রেঞ্জার মো: সুমন মিয়াকে বদলী করা হয়েছে এপ্রিল মাসের ৮তারিখে ঢাকা বন বিভাগে। কিন্তু বদলীকৃত কর্মকর্তা সুমন মিয়া কেন্দ্রীয় বন সংরক্ষকের বদলীর আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রেঞ্জ ত্যাগ না করায়, কেন্দ্রীয় বন সংরক্ষক কার্যালয় অফিস থেকে পুনরায় ২০শে এপ্রিল চূড়ান্ত নির্দেশনা দিয়ে ময়মনসিংহ বনবিভাগের ডিএফওকে তাকে (সুমন মিয়াকে) চূড়ান্ত অব্যহতির দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।

এমন নির্দেশনার সময়সীমা মাত্র ১দিন বাকি থাকলেও রেঞ্জ ত্যাগ করার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা সুমন মিয়ার ভেতরে।

বরং উল্টো বনবিভাগের কেন্দ্রীয় বন সংরক্ষকের আদেশকে অমান্য করে কেন্দ্রীয় বন সংরক্ষককে গালি দিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হাত ধরে বদলীর আদেশ ঠেকাতে মরিয়া এই ফরেস্ট রেঞ্জার সুমন মিয়া।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সুমন মিয়া ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন, ফলে স্বাভাবিক ভাবেই আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তার দাপটে তটস্থ ছিলো বন বন বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ।

তবে এবার বোল পাল্টে নিজেকে বিএনপি সাজিয়ে হলেও বন্ধ করতে চায় বন সংরক্ষকের জারী করা তার বদলীর আদেশ- থাকতে চায় একই রেঞ্জেই।

বনবিভাগের চাকুরীর বিধিমালা অনুযায়ী এক রেঞ্জে ২বছর থাকার কথা,এই সুমন মিয়াকে ২বছর পার হয়ে নিয়মমতো বদলী করা হলেও সে মধুখ্যাত বালিজুরী রেঞ্জ ছাড়তে নারাজ।

নারাজ হওয়ার আঁড়ালে আছে অন্যকাহিনী, সমগ্র বাংলাদেশে বন বিভাগের বিভিন্ন ডিভিশন নিয়ে কাজ করা এই প্রতিবেদকের হাতে ওঠে আসে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য।

ফরেস্ট রেঞ্জার সুমন মিয়া মূলত বনবিভাগের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ সময় জুনের আগে বদলী হয়না কোথাও তবে সে জুনের আগে বদলী হয়ে অন্য রেঞ্জারের ক্লোজিং পিরিয়ড শেষ করতে না দিয়ে ক্লোজিংটা নিজে ধরে নেয়ার একটা প্রকট প্রবণতা কাজ করে তার ভেতর।যেমন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বর্তমানে ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা সুমন মিয়া বালিজুরী রেঞ্জের সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল ইসলামকে ২০২৪সালের জুন মাস ক্লোজিং এর আগেই জোরপূর্বক বিদায় দেয় এমনকি হিসাবকিতাবও শেষ করার সুযোগ সেই সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল ইসলামকে দেয়া হয়নি। বরং সেই রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউলের বিরুদ্ধে বালিজুরী রেঞ্জে ১০কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ তোলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট দেয় মি.সুমন মিয়া।

সেই ১০কোটি টাকার আত্মসাৎ এর অপমানে রবিউল ইসলাম মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন।ফলে অল্প বয়সেই হাসপাতালে  মৃত্যু বরণ করেন।

পুরো বাংলাদেশের বনবিভাগে জনশ্রুতি রয়েছে রবিউল ইসলামের মৃত্যুর জন্য এই ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা সুমন মিয়াই দায়ী। এদিকে ময়মনসিংহের বনবিভাগের একাধিক কর্মকর্তার দাবী সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম যদি ৪বছরে ১০কোটি টাকা কামাইতে পারেন, তাহলে একই রেঞ্জে দীর্ঘদিন ২বছরের বেশী সময় দায়িত্ব পালন করে এই সুমন মিয়া মিনিমাম ৫/৬কোটি টাকা কামিয়েছেন অবশ্যই।

তার বিরুদ্ধে রসুলপুর ও বালিজুরী রেঞ্জের সুফল প্রকল্পে ব্যাপক দূর্নীতি, অবৈধভাবে খাড়া গাছের লট বিক্রি, অবৈধভাবে বাগানের মূল্যবান কাঠ পাচার, অবেধ করাতকলে নিরব চাঁদাবাজির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে বালিজুরী ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: সুমন মিয়াকে অভিযোগের বিষয়ে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি বলেন, আমাকে বদলী করা হয়েছে সেটা শুনছি তবে ডিভিশন অফিস থেকে কোন কাগজপত্র আমার কাছে আসেনি এবং আমাকে কোথায় বদলী করা হয়েছে সেটাও জানিনা।
জানছি সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে।

তখন প্রতিবেদক বলেন, ডিএফও নুরুল করিম তো স্বীকার করলো আপনি বদলীর আদেশ জানার পরেই তাকে মৌখিক আবেদন করেছেন আরো কিছুদিন থাকার জন্য। এবং স্থানীয় ভাবে প্রভাবশালীর সুপারিশও আপনি করিয়েছেন যাতে জুন মাস পর্যন্ত থাকতে পারেন।

তবে তার জায়গায় বালিজুরী রেঞ্জে এখনো অন্য কাউকে দায়িত্ব দেননি বলে সুমন মিয়া জানান একই কথা ডিএফও কাজী নুরুল করিমও নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে সাবেক ফরেস্টার রবিউল ইসলামের অকাল মৃত্যুতে ফরেস্ট রেঞ্জার সুমন মিয়া দায়ী কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন আমি কেন দায়ী থাকবো?

তার (রবিউল) বিরুদ্ধে আমি ডিভিশনের নির্দেশনা মতো ৪বছরের হিসাব টেনে ৯কোটি ৬১লাখ টাকার গরমিলের হিসাব প্রদান করেছি সত্য।পরে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দুদকও দুটি তদন্তে একই টাকার গরমিলের সত্যতা পেয়েছে।

তখন প্রতিবেদক পাল্টা প্রশ্ন করেন আপনার রিপোর্টের মানসিক টেনশনে সে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে বলে রবিউল ইসলামের পরিবার দাবী করেছেন তাই সে অল্পদিনেই মারা যায়।তখন অভিযুক্ত সুমন মিয়া জানান, অল্পদিন নয় প্রায় ১বছর পরে তার মৃত্যু হয়েছে সেটা সত্যি।

এদিকে ময়মনসিংহ বনবিভাগের ডিএফও কাজী নুরুল করিমকে কল করা হলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে বলেন,হ্যাঁ ওনাকে(সুমন মিয়া) বদলী করা হয়েছে পরে আরেকটা নির্দেশনায় অব্যহতির চূড়ান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আমি বরাবর।

প্রতিবেদক তখন পাল্টা প্রশ্ন করেন -তাহলে ফরেস্ট রেঞ্জার সুমন মিয়াকে রিলিজ করা হচ্ছেনা কেন?আপনি কি কেন্দ্রীয় বন সংরক্ষকের আদেশ অমান্য করতে পারেন! তখন তিনি বলেন পারিনা তবে সে থাকতে চাচ্ছে আরো কিছুদিন, থাকার জন্য একটা আবেদনও করেছেন।

এদিকে বদলির আদেশ এবং চূড়ান্ত অব্যহতির নির্দেশনার পরও তার আবেদন চাকুরীর নীতিমালার বহির্ভূত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,আসলে লিখিত আবেদন নয় মৌখিক অনুরোধের পাশাপাশি কিছু লোকজন নিয়েও সুপারিশ করা হয়েছে।

তখন প্রতিবেদক ডিএফও নুরুল করিমকে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়েন, তার মৌখিক আবেদন এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সুপারিশে কি কেন্দ্রীয় বন সংরক্ষক কার্যালয়ের আদেশ স্থগিত হওয়ার সুযোগ আছে কিনা? এবং থাকলে কতদিন থাকবেন সুমন মিয়া?

তখন ডিএফও নুরুল করিম প্রতিবেদককে বলেন আসলে সুমন মিয়ার থাকার সুযোগ নেই চলে তো যেতে হবে তবে দেখি।

এদিকে প্রতিবেদককে ডিএফও কাজী নুরুল করিম সরাসরি জানিয়েছেন সুমন মিয়াকে ডিভিশনে রাখার কোন ইচ্ছে নেই।কিন্তু ফরেস্ট রেঞ্জার মি.সুমন মিয়া নিজেই থাকতে চাচ্ছে সে চাইলে এখনি চলে যেতে পারেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.