সাতকানিয়া-মাদকের দ্বন্দ্বেই খুন মাদক মামলার আসামি শাহাদাত, অভিযোগের তীর আরেক মাদককারবারির বিরুদ্ধে
নিহত শাহাদাত আগে জামায়াতের রাজনীতিতেও জড়িত ছিলেন-
আব্দুল আলম, সাতকানিয়া প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের হামলায় মুহাম্মদ শাহাদাত (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল রাত ১১টার দিকে উপজেলার রাস্তার মাথা এলাকায় হামলার এ ঘটনা ঘটে। ২৭ এপ্রিল, সোমবার ভোরে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শাহাদাত উপজেলার উত্তর ঢেমশা ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঘটনাস্থল সংলগ্ন এলাকায় একটি চায়ের দোকান চালাতেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বিবাহিত এবং তার তিন ছেলে সন্তান ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শাহাদাত একসময় জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে তিনি কোনো পদে ছিলেন না। যদিও তিনি রাজনৈতিক মামলায় জেলও খেটেছেন। এছাড়া শাহাদাতের নামে সাতকানিয়া ও নগরের কোতোয়ালি থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এসব মামলায়ও কারাগারে ছিলেন তিনি। সবশেষ মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে হত্যা করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে সাতকানিয়া মডেল মসজিদের সামনে নিজের দোকানে বসে ছিলেন শাহাদাত। এসময় দুটি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ১০ থেকে ১৫ জন মুখোশধারী ব্যক্তি সেখানে আসে। তারা লাঠি, হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে শাহাদাতের ওপর হামলা চালায়।
হামলার সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে চাইলে দুর্বৃত্তরা আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখায় এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহাদাতকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বড় ভাই মোবারক হোসেন বলেন, আমার ছোট ভাই দোকানে বসে ছিল। একদল দুর্বৃত্ত অস্ত্র নিয়ে এসে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
জানতে চাইলে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, রাতের ঘটনায় আহত শাহাদাত আজ সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মরদেহ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মাদকের মামলার আসামিও ছিলেন নিহত শাহাদাত সেটাও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের ভাই মোবারক হোসেন সরাসরি সাতকানিয়ার ঢেমশা থেকে গত ৫ই ফেব্রুয়ারি ১০হাজার ইয়াবা নিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার লোহাগাড়ার ইয়াবা কারবারী কামাল হোসেনের দিকেই তোলেছেন ইঙ্গিত। তার ভাস্যমতে ইয়াবা নিয়ে কামাল প্রকাশ পিচ্চি কামাল গ্রেফতার হলে ওই গ্রেফতারের বিষয়ে নিহত শাহাদাতকেই সন্দেহ করে আসছিলেন।
এদিকে স্থানীয়রা প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ওই ইয়াবা কামাল প্রকাশ পিচ্চি কামালের লোকজন ইতিপূর্বে শাহাদাতের খুব কাছের একজন ঢেমশার স্থানীয় রায়হানকে কেরানিহাটের সোনার বাংলা ব্রিকফিল্ডের ওদিকে নিয়ে একবার মারধর করেছিল।এবং নিহত শাহাদাত জামায়াতের অঙ্গসংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক পদবীধারী নেতা ছিলেন বলেও নিশ্চিত করেছেন।