চট্টগ্রামে রাতভর ভারি বৃষ্টি, সময়ের সাথে বাড়ছে পানি: নিচু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে

 

মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন

টানা অতিভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির কারণে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, হালিশহরেরও মতো নিচু এলাকাগুলোতে হাঁটু পানি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আজ সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এর আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৮২ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। কোনো এলাকায় ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে তাকে অতি ভারী বৃষ্টি বলে।

তিন দিন ধরে চট্টগ্রামে বৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় নগরের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নগরের বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, ফরিদার পাড়া, চান্দগাঁও, চকবাজারের তেলেপট্টি গলি, কাট্টলীর ঈশান মহাজন সড়ক, হালিশহরের কে ও এল ব্লকের সোনালি আবাসিক, বসুন্ধরা আবাসিক , রামপুর, আনন্দীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জে হাঁটুপানি রয়েছে। গাছ ভেঙে পড়েছে ঈশান মহাজন সড়কে। গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে সড়কটিতে।

জোবায়ের হোসেন নামের এক চাকরিজীবী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের অফিস আগ্রাবাদ এলাকায়। কিন্তু সেখানে সকাল থেকে হাঁটুসমান পানি জমেছে। পানির কারণে অফিসে ঢুকতে বেগ পেতে হয়েছে।

নগরের ফরিদার পাড়ার বাসিন্দা ইফতেখার উদ্দিন জানান, তাঁদের এলাকার সড়কে পানি জমেছে। সকালবেলায় পানি জমে থাকার কারণে ঘর থেকে বের হতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা প্রথম আলোকে বলেন, নগরের কয়েকটি এলাকায় পানি জমে থাকার খবর পেয়েছেন। দুই দিন ধরে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। আজ সকালে জোয়ারও যুক্ত হয়েছে। এ কারণে এসব এলাকায় পানি জমেছে। নালা ও খাল পরিষ্কার থাকায় পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। তবে নগরের জলাবদ্ধতাপ্রবণ বেশ কিছু এলাকায়, যেমন মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, দুই নম্বর গেট এলাকায় পানি ওঠার খবর পাননি।

নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ৮ থেকে ১০ বছর ধরে চারটি প্রকল্পের কাজ চলছে। গত মার্চ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন হয়নি। চলতি বছর সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা হয় গত ২৮ এপ্রিল।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.