শেয়ার হোল্ডারদের শেয়ার সার্টিফিকেট না দিয়ে দেয়া হচ্ছে চুক্তিপত্র- হুমকির মুখে সবার বিনিয়োগ

ভেস্তে যেতে পারে আল হায়াত হাসপাতালের শতাধিক শেয়ার হোল্ডারের স্বপ্ন-

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া কেরানী হাটে অবস্থিত বিতর্কিত আল হায়াত হাসপাতাল প্রা: লি: এর পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারি ও দূর্নীতি চিকিৎসক হয়রানী এবং পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনের পর এবার ওঠেছে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের সবার সাথে সুক্ষ কৌশলে প্রতারণা করার গুরুতর অভিযোগ।
হাসপাতালটির মালিকানার কাগজ না পেয়ে কেউ দৌড়াচ্ছে উপজেলা প্রশাসনের দোয়ারে দোয়ারে  আর কেউ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আর কেউ পুলিশ প্রশাসনের কাছে।

কোনমতেই থামছেনা প্রতিষ্ঠানটির জালিয়াতি ও দূর্নীতির ফিরিস্তির কাহিনী।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে মোট ডিরেক্টর হচ্ছে ৫০জন আর শেয়ারহোল্ডার হচ্ছে ১০০ জন। নথিপত্রে ঘেঁটে দেখা যায় ১ম ধাপে ৮০টা শেয়ার হোল্ডার থেকে নেয়া হয় ৭লাখ টাকা করে, আর বাকী ২০টা থেকে নেয়া হয় ১০ লাখ টাকা করে।
আর ডাইরেক্টর ৪৮জন থেকে নেয়া হয় ১২লাখ করে এবং ২জন থেকে নেয়া হয় ২৫ লাখ করে তাও উদ্বোধনের ২মাস আগে।

পরিচালনা পর্ষদের এমডি ডাক্তার জাহেদ সাক্ষরিত আর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডাক্তার জসিম সাক্ষরিত কিছু সংখ্যক শেয়ারহোল্ডারকে দেয়া হয়েছে একটি চুক্তিপত্র। জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রীতিমতো চুক্তিপত্র শেয়ার হোল্ডারদের মালিকানা নির্ধারণ করেনা।কারণ শেয়ারহোল্ডারদের দেয়া চুক্তিপত্রগুলোর একটাতেও নেই টাকার পরিমাণ লেখা নেই শেয়ারের পরিমাণ লেখা।

এদিকে ইতিমধ্যে যারা আল হায়াত হাসপাতাল প্রা:লি: থেকে শেয়ার সার্টিফিকেট না নিয়ে চুক্তিপত্র নিয়েছেন তারা কেউ ভবিষ্যৎ এ মালিকানা পরিবর্তন কিংবা বিক্রি করতে পারবেননা বলে চট্টগ্রাম সংবাদকে  মতামত দিয়েছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট  (সিএ) মো: আরাফাত ইসলাম।

 

প্রতিবেদকের সাথে মুঠোফোনে ওই চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট বলেছেন- ইতিমধ্যে প্রদানকৃত চুক্তিপত্রে যেহেতু সনদ নম্বর পড়েনি এবং শেয়ারের অংক ও শেয়ারের হিস্যা এবং টোটাল শেয়ারের কতটুকু মালিকানা তা প্রস্তুত করে শেয়ার সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়নি তাহলে এখন পর্যন্ত সবার মালিকানা ঝুঁকি তে আছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা কাজের সুবাদে বড় বড় কোম্পানিতে দেখতে পায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার সার্টিফিকেট না দিয়ে ম্যানেজমেন্ট একটা চুক্তিপত্র দেয় ওই চুক্তিপত্র কি মালিকানা নির্ধারণ করে? ওই চুক্তিপত্র দিয়ে কি তার মালিকানা পরবর্তীতে হস্তান্তর কিংবা বিক্রি করতে পারবে?
যদি চুক্তি দিয়ে বলা হয় যে পরবর্তী ৩মাসের মধ্যে শেয়ার সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে তাহলে ঠিক আছে। নয়তো এই চুক্তি দিয়ে শেয়ার হোল্ডারররা কখনো মালিক হবেনা। কারণ শেয়ার সার্টিফিকেটে থাকবে কোম্পানির নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও শেয়ারহোল্ডারের নাম ও ঠিকানা শেয়ারের সংখ্যা
প্রতি শেয়ারের মূল্য (Face Value) মোট শেয়ারের মূল্য সার্টিফিকেট নম্বর ইস্যুর তারিখ পরিচালক/সচিবের স্বাক্ষর কোম্পানির সীল।

এদিকে প্রতিবেদকের হাতে আসা একাধিক শেয়ার হোল্ডারদের চুক্তিপত্রে একটাতেও নেই টাকার পরিমাণ এবং শেয়ারের পরিমাণ ও সার্টিফিকেট এর নম্বর।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.