চন্দনাইশে ফাতেমা জিন্নাহ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারীতা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

 

চন্দনাইশ প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম চন্দনাইশে উপজেলা পরিষদের সামনে সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফাতেমা জিন্নাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.ওসমান আলী ও সাবেক অ্যাডহক কমিটির বিরুদ্ধে অনিয়ম,আর্থিক প্রতারণা এবং হয়রানির বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ ও অর্থ ফেরতের দাবীতে ইউএনও বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন অনিয়মিত এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,২০২৫ সালে অত্র বিদ্যালয় থেকে এসএসসি টেস্ট (নির্বাচনী) পরীক্ষায় চার বা তার অধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদেরকে এসএসসি পরীক্ষার উত্তীর্ণ করেনি। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের টেস্ট পরীক্ষায় পুনরায় সেসব শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ২৫ সালের মত ২৬ সালে এসে আবারও চার বিষয়ে ফেল করেন সেসব শিক্ষার্থীরা। এমতাবস্থায়, তৎকালীন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি (সাবেক ইউএনও রাজিব হোসেন) এবং অভিভাবক সদস্য (এলডিপির একজন নেতা) প্রথমে তিন বিষয়ে অকৃতকার্যদের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরবর্তীতে চার বিষয় পর্যন্ত অকৃতকার্য ২৪ জন ছাত্রীকে বিশেষ শর্তে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২৪ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে এনে তাদের মেয়েদের পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। একই সাথে মূল পরীক্ষায় পাস করলে ফেরত দেওয়া হবে-এই শর্তে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে প্রতি ছাত্রীর কাছ থেকে ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা জামানত এবং কোচিং ফি বাবদ বাধ্যতামূলকভাবে আরও ৩,০০০/- (তিন হাজার) টাকা আদায় করেন এবং সেসময়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ এইসব শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছিল যে, ফেল করা ২৪ জন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেটের মতো করে যত্ন সহকারে নতুন সিলেবাস দিয়ে পড়ানো হবে। তবে বাস্তবে দেখা গেল নিয়মিত ছাত্রীদের সাথে বসিয়ে নামমাত্র দেড় মাস কোচিং করানো হয়েছে। অপরদিকে অনিয়মিত ২৪জন শিক্ষার্থীদের মূল পরীক্ষার জন্য নতুন সিলেবাস থেকে পড়ানো হলেও বাস্তবে এসএসসি পরীক্ষায় গিয়ে দেখা যায় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সম্পন্ন নতুন সিলেবাস থেকে করা হয়েছে। এই মিথ্যা আশ্বাসের কারণে পরীক্ষার হলে বিপাকে পড়ে যান এইসব অনিয়মিত শিক্ষার্থীরা। কানিজ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন,সম্প্রতি আমাদের বসতবাড়িতে আগুন লেগে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। এমতবস্থায় অন্যের কাছে হাত পেতে অনেক কষ্ট করে আমার মা-বাবা আমার পরীক্ষার ফরম ফিলাপ,জামানত ও কোচিং করার জন্য মোট ১০ হাজার টাকা জোগাড় করে দিয়ে ছিলেন শুধুমাত্র আমার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য। কিন্তু পরীক্ষার হলে গিয়ে প্রশ্নপত্র দেখে আমার সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। স্যারদের কথার সাথে কাজের কোন মিল ছিল না। আরেকজন শিক্ষার্থী বর্ষাশীল বলেন,আমার স্বপ্ন ছিল বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করার। কিন্তু মা-বাবা ইচ্ছে পূরণ করতে কমার্স নিয়ে পড়াশোনা করছি। সারা বছর বিদ্যালয়ে ক্লাস করছি কমার্স বিভাগে। কিন্তু দুঃখের বিষয় টেষ্ট পরীক্ষার কিছুদিন আগেই স্কুলের ম্যাডাম ফোন করে ডেকে নিয়ে গিয়ে বলেন তোমার রেজিষ্ট্রেশন হয়েছে মানবিক বিভাগে। এই অবস্থায়ও অল্প কিছুদিন প্রস্তুতি নিয়ে আমি টেষ্ট পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। এছাড়াও আমি হিন্দুর মেয়ে বলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমার সাথে নানান সময়ে খুবই খারাপ ব্যবহার করতেন। এমনকি আমার মায়ের সাথে বাজেভাবে আচরণ করতেন প্রধান শিক্ষক।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.