ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের নাটকে শেষ পেরেক, দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি মাত্র নথিতেই
সত্যি হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সংবাদ'র খবর-
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মলেয়াবাদ এলাকার হাজী ফজল করিম সওদাগরের ছেলে সাহাবুদদীনকে প্রকাশ্যে ঘুসি মেরে আহত করা হয়।পরে আঘাতের কারণে নাকের রক্তক্ষরণ অবস্থায় সাহাবুদদীনের মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু রটিয়ে পোস্ট মর্টেম ছাড়াই গভীর রাতে দাফন করার নাটকে শেষ পেরেক ঠুকে দিলেন দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাত্র একটি নথি।

উপরোক্ত যে রেকর্ডে লেখা আছে সাইফুদ্দিনকে মারধরের কথা-
জানা যায়, গত ৮ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাতকানিয়ার কালিয়াইশের রাজমহল ক্লাবের সামনে খোর্শেদ ও মাহফুজের দোকানের সামনে একই এলাকার ছাত্রদল নেতা ইলিয়াস সানির নেতৃত্বে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত সাইফুদদীনের সাথে হাতাহাতির সৃষ্টি হয়।
হাতাহাতির এক পর্যায়ে রাজমহল ক্লাবের সামনে সাইফুদদীনের নাকে আঘাত লাগলে প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হয়।রক্তক্ষরণ অবস্থায় আহত সাইফুদ্দীনকে প্রথম চিকিৎসা করেন ঘটনাস্থলের পাশে থাকা ফার্মেসীর পল্লী চিকিৎসক মিজান।
পরে মিজান নিজেই সহযোগিতা করে পার্শ্ববর্তী দোহাজারী মেডিকেল হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসা করেন।
দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নথিতে দেখা যায় মারধরের ঘটনায় আহত সাইফুদ্দীনকে আনা হয়।
এবং দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সি রেজিস্ট্রারে মারধরের কথা নথিভুক্ত করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে আহত সাইফুদ্দীনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
পাশাপাশি পুলিশ কেস হিসেবে নথিভুক্ত করে ১৪৩৯ নং রেজিস্ট্রার লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়।
এদিকে দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে পুলিশ কেস এর কাগজপত্র গায়েব করে ফেলেন সাইফুদদীনের আপন বড় ভাই জসিম।
চতুর আপন বড় ভাই জসিম -চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাইফুদদীনকে ভর্তি করান স্বাভাবিক ভাবে নাকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে সেই কথা উল্লেখ করে।
পরে নাকের হাড্ডি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৩ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন আহত সাইফুদ্দীন।
মারধরের কথা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গোপন রেখে স্বাভাবিক মৃত্যুর ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন চালাক বড় ভাই জসিম।অনুসন্ধানে আরো ওঠে এসেছে- সাইফুদ্দিনের লাশকে গ্রামে না এনে পাঁচলাইশ থানাধীন আঞ্জুমান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে গোসল করিয়ে নিহত নুরুল গ্রামের নিজ বাড়িতে না এনে গভীর রাতে নিহতের স্ত্রী সন্তানদের না দেখিয়ে চাচাত ভাই রিফাত আর আপন বড় ভাই জসিম মিলে তাদের কালিয়াইশের পারিবারিক কবরস্থানে কবর দিয়ে দেয়।
এদিকে মৃত্যুর পরে চট্টগ্রামের সাপ্তাহিক পত্রিকার চট্টগ্রাম সংবাদ’র অনলাইন ও ঢাকা রিপোর্ট এবং দৈনিক সকালের সময়ে হত্যার ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়ে স্বাভাবিক মৃত্যু রটিয়ে গভীর রাতে লুকোচুরি করে লাশ দাফন’শীর্ষক খবর করা হলে নিহতের বড় ভাই জসিম সাতকানিয়া থানাকে স্বাভাবিক মৃত্যুর ডেথ সার্টিফিকেট দেখান।
এবং ওই ডেথ সার্টিফিকেটের ভিত্তিতেই প্রকাশ্যে রাজমহল ক্লাবের সামনে লোকজনের সামনে মারধর করে আহত করার ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার শেষ চেষ্টা চালানো হয় বলে আবারো পূনরায় চট্টগ্রাম সংবাদে খবর প্রকাশিত হয়।
এদিকে চট্টগ্রাম সংবাদ’র একটি অনুসন্ধানী টীম দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে সাহাবুদদীনকে আহত অবস্থায় প্রথম ভর্তির সময় নথিতে কি উল্লেখ ছিলো সেটার জন্য তৎপরতা শুরু করেন।
এক পর্যায়ে বের করা হয় ৮তারিখের রেকর্ডবুক ফলে দেখা যায় ফিজিক্যাল এসাল্ট( P/A) এবং রেকর্ডবুকে আরো লেখা হয় মারধরের কারণে Bleeding for nose. Referred to CMCH.
অথচ!এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দোহাজারী হাসপাতালের সেই রোগীর মৃত্যুকে ৪দিন পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয় স্বাভাবিক মৃত্যু।
ফলে চট্টগ্রাম সংবাদ টীম দোহাজারী হাসপাতালের নথির সাথে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেকর্ডবুকের সাথে না মিলানোর কারণ খুঁজতে মাঠে নামে।
সেই অনুসন্ধানে ওঠে এসেছে আরো ভয়াবহ তথ্য- আহত সাহাবুদদীনকে দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বের করার পর চট্টগ্রাম শহরে আনার পথে মাঝপথে বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেলে ঢুকানো হয়।যেটার দূরত্ব দোহাজারী থেকে মাত্র ৩০ মিনিট, সেই ৩০মিনিটের পরই বিজিসি ট্রাস্টে বলা হয় হোঁচট খেয়ে নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
সেই বিজিসি ট্রাস্টের কাগজ দিয়েই ভর্তি করানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অতএব সেই কাগজের উপর ভিত্তি করেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে স্বাভাবিক মৃত্যুর ডেথ সার্টিফিকেট নিয়ে গভীর রাতে স্বজনদের না দেখিয়ে নিহত সাইফুদদীনের মরদেহ দাফন করা হয়।
এদিকে দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নথি থেকে মারধরের ঘটনায় প্রথম নথিভুক্ত রেকর্ড সংগ্রহ করেছেন সাতকানিয়া থানা পুলিশের এসআই জহির আমিন।
সাতকানিয়া থানার এসআই জহির আমিন চট্টগ্রাম সংবাদ’র খবরের আলোকে ১৪ই সেপ্টেম্বর দুপুরে দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নথিপত্র সংগ্রহ করেন বলে থানা ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়।
ঘটনার বিষয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত নেমেছে পুলিশ এমন তথ্য প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, সাতকানিয়া থানা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো:আরিফ।
এদিকে স্থানীয়রা নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, মূলত সাহাবুদদীনের বড় ভাই জসিম ও চাচাত ভাই রিফাত ও আব্দুল জব্বার মানিকের নেতৃত্বে প্রকাশ্য স্থানে আঘাত করে মৃত্যু ঘটানোর প্রক্রিয়াকে রটানো হয়েছে হোঁচট খেয়ে রক্তক্ষরণের মৃত্যু।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দোহাজারীর এক ডাক্তার জানিয়েছেন আমরা নিহত সাইফুদদীনকে প্রথম চিকিৎসা দিয়েছি এবং প্রথম চিকিৎসায় রেকর্ডবুকে আমরা কি লিখেছি,মূলত সেটার উপর ডিফেন্ড করবে ওই রোগীর মৃত্যুর কারণ।
আমরা লিখেছি তাকে মেরে নাক ফাটানোর কথা, অতএব সেটা হত্যায় এর চেয়ে বেশী কথা আমরা ডাক্তার হিসেবে বলতে পারিনা।শুধু তাই নয় আহত সাইফুদ্দীনের সাথে যারা আসছে তারাও বলেছে মারধরের রোগী।ফলে তারা নিজেরাই পুলিশ কেস সীলমোহর যুক্ত কাগজ নিয়ে গেছে।পরবর্তীতে একই রোগী ঘন্টা খানেকের মধ্যে এক্সিডেন্টের রোগী হয়ে যায় সেটা আমাদের পেশাগত লাইফে এটাই প্রথম।