স্বাভাবিক নিয়মে ভোটার হওয়া যায় না সাতকানিয়া নির্বাচন অফিসে,লাগে কটকটে হাজার টাকার নোট
টাকার গন্ধ নাকে না গেলে পড়তে হয় নিয়মের বেড়াজালে -
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নির্বাচনী অফিসে রোহিঙ্গাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপকর্ম বেশ কয়েকবছর ধরে চাউর হলেও এবার সামনে এসেছে দূর্নীতির নতুন ভার্সন।
দূর্নীতির নতুন ভার্সনের প্রবক্তা লোহাগাড়া উপজেলা থেকে আসা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। জানা যায়, গত বছরের ২৮শে জুলাই লোহাগাড়া উপজেলা থেকে বদলী হয়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় তিনি নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন।
দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই তিনি ভোটারের ফাইল প্রতি ১হাজার টাকা করে নেন।
যে ফাইলে এক হাজার করে পিন মারা থাকে সেই ফাইল তিনি সই সাক্ষর করে ছেড়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেন মাত্র এক সপ্তাহের ভেতর।
আর কেউ টাকা ছাড়া করতে চাইলে নিয়মের বেড়াজালে ফেলে পায়ের তলার সেন্ডেল ক্ষয় হয়ে গেলেও হওয়া যায় না ভোটার।
তদন্তে আরো ওঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, এক হাজার টাকার নোটের লেনদেনটা গোপন থাকার জন্য সাতকানিয়া নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কয়েকজন নির্দিষ্ট দালাল থাকে, তাদের মাধ্যমে ফাইল আসা লাগবে যাতে ওই দালালেরা কিছু সুবিধা পেতে পারে ভোটার হতে আসা ব্যক্তিবর্গ থেকে আর এক নির্বাচন কর্মকর্তার হাজার টাকার বিষয়টিও যাতে নিরাপদ থাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাতকানিয়ার পার্শ্ববর্তী উপজেলা তাও আবার একই নির্বাচনী আসনে দীর্ঘদিন চাকুরী করার ফলে সাতকানিয়ার মানুষের আচার আচরণ ও সহজসরলতার বিষয়ে আগে থেকেই অবগত হওয়ায়, তিনি সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই চালাচ্ছেন দূর্নীতি। ভোটার স্থানান্তরেও দেদারসে চালাচ্ছেন দূর্নীতি।
ভোটারের ফাইল প্রতি নির্বাচন কর্মকর্তার জন্য এক হাজার টাকা করে লাগলেও বিভিন্ন আনুষঙ্গিক বাবদ একজন ব্যক্তিকে ভোটার হতে কখনো কখনো ৫/৬হাজার থেকে শুরু করে ৭/৮হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয় এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন সাতকানিয়া পৌরসভার অন্তত ১০/১২ জন ব্যক্তি।
তারা আরো বলেন,এক হাজার টাকার বিষয়টা হচ্ছে যারা শুধু মাত্র সাতকানিয়া জন্ম গ্রহণ বা সাতকানিয়ার জন্ম সনদ আছে তাদের জন্য, যদি সাতকানিয়ার কোন বাসিন্দা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জন্ম সনদ থাকে তখন দাম আরো বেশী সেই দাম দাঁড়ায় ৩হাজারে গিয়ে।
এদিকে ভোটার হতে প্রতি ফাইল ১হাজার টাকা করে কি কাজে লাগে এমন তথ্য জানার জন্য কল করা হয় সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে তখন তিনি বলেন-ভাই ভোটার হওয়া সকল নাগরিকদের নাগরিকত্ব অধিকার, এখানে টাকা পয়সার লেনদেন হয়না।
কেউ প্রমাণ দিতে পারলে আমি যথাযথ ব্যবস্থা নিব।
তখন প্রতিবেদক পাল্টা প্রশ্ন করেন,কেউ নিচ্ছেনা অভিযোগটা আপনাকে জড়িয়ে তখন তিনি হেসে বলেন- ভাই সব মিথ্যা।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার বেলায়েত হোসেন চৌধুরীর সরকারি মুঠোফোনে কল করা হলেও তাকে না পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
তবে প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে এবং বক্তব্যের বিষয় উল্লেখ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন চৌধুরীকে হোয়াটসঅ্যাপ এ ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে।