মিরসরাইয়ে আরএসপিএল কারখানার শ্রমিকবাহী গাড়ি আটক করে চাঁদা দাবির অভিযোগ

 

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে আরএসপিএল (RSPL) কারখানার শ্রমিক পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়ি আটক করে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. সোহাগ হোসেন নামে এক পরিবহন ব্যবসায়ী জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মো. সোহাগ হোসেন মিরসরাই শিল্পাঞ্চলের আরএসপিএল কারখানায় শ্রমিকদের আনা-নেওয়ার জন্য গাড়ি সরবরাহের পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকদিন ধরে একটি পক্ষ তার পরিবহন ব্যবসায় বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোর আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে আরএসপিএল কারখানার শ্রমিকদের বহনকারী গাড়ি গুলো আটকানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় গাড়িতে থাকা শ্রমিকদের জোরপূর্বক অন্য গাড়িতে গুলো তে তুলে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার খবর পেয়ে আরএসপিএল কারখানার এইচআর কর্মকর্তা আরিফুর রহমান সুমন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে পরিস্থিতি দেখে তিনি তাৎক্ষণিক পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সেখান থেকে সরে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও পরবর্তীতে গাড়ির কন্ট্রাক্টর মো. সোহাগ হোসেন বাদী হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
ঘটনার সময় গাড়িতে থাকা কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাগর, জসিম ও রুবেল নামে তিনজনকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন ব্যবসায়ীদের নিজস্ব গাড়ি দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। অন্যথায় তাদের চাঁদা দিতে হবে—এমন কথাও বলা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এর আগেও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারী সোহাগ হোসেন আরও জানান, কয়েকদিন ধরে একটি পক্ষ নিয়মিত কারখানায় গিয়ে তাকে ভয়ভীতি, হুমকি ও ধমকি দিচ্ছে। তার পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি গাড়ি নিয়ে কারখানায় গেলে মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি কারখানায় গিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেন। একই সঙ্গে সোহাগ হোসেনকে গাড়ি না চালানো এবং গাড়ি নিয়ে কারখানায় প্রবেশ করলে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় নিজের ও পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সোহাগ হোসেন। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে আশঙ্কা করে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোরারগঞ্জ থানার ওসির কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
সোহাগ হোসেনের দাবি, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভয়ভীতি ও হুমকির মাত্রা বাড়ছে।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী আইনগতৃ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে অভিযোগে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.