পটিয়ায় যৌতুকের বলি আরেক গৃহবধূ

 

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

প্রেমের সম্পর্ক পেরিয়ে পারিবারিকভাবে ঘর বেঁধেছিলেন তানিয়া কামাল নিহাত (২০) ও নুর উদ্দিন (২৫)। কিন্তু সেই সুখের স্বপ্ন স্থায়ী হলো মাত্র কয়েক মাস। যৌতুকের দাবি মেটাতে না পেরে অবশেষে প্রাণ হারাতে হলো ৮ মাসের অন্তসত্ত্বা এক গৃহবধূকে।

রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই মোনাফ হাজির পাড়ায়  এ ঘটনা ঘটে।

​নিহত তানিয়া কামাল নিহাত পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়ন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণখাইন গ্রামের মোহাম্মদ কামালের কন্যা। অন্যদিকে অভিযুক্ত স্বামী নুর উদ্দিন একই উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোনাফ হাজির পাড়ার কাঞ্চন মিয়ার ছেলে। পুলিশ গৃহবধূর স্বামী নুর উদ্দিনকে আটক করেছে।

​জানা যায়, তানিয়া ও নুর উদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘ চার থেকে ৫ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উভয় পরিবারের সম্মতিতে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর কিছুদিন সবকিছু ঠিকঠাক চললেও পরবর্তীতে শুরু হয় পারিবারিক কলহ। যৌতুকের জন্য প্রায় নির্যাতন করা হতো তানিয়াকে।

​নিহতের পিতা মোহাম্মদ কামাল জানান,গত ঈদে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তানিয়ার জন্য নতুন কাপড়চোপড় ও উপহার দাবি করেছিল। কিন্তু তিনি রমজান মাসে সাধ্যমতো উপহার দিলেও সম্প্রতি পুনরায় কাপড়চোপড় ও যৌতুকের দাবি তুললে তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। আর এই সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করেই শুরু হয় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অমানবিক নির্যাতন। মেয়ের ওপর চলা ধারাবাহিক শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের জেরে এলাকায় বেশ কয়েক দফায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ-বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। যৌতুকের বলি হতে হলো অনাগত সন্তানের মা তানিয়াকে।

পটিয়া ​উপজেলা কৃষকদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন জানান, তানিয়া ও নুর উদ্দিনের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ককে সম্মান জানিয়ে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর যৌতুকের কারণে এভাবে একটি তাজা প্রাণ ঝরে যাবে, তা কেউ কল্পনাও করেনি। তিনি এই নৃশংস ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অন্ত:সত্ত্বা গৃহবধুর স্বামী নুর উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রেখেছেন এবং গৃহবধূর মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.