কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের জেটি গিলে খাচ্ছে গ্রামীণ সড়ক

চট্টগ্রাম সংবাদ ডেস্ক:

 

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির পাশে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ব্যক্তিমালিকানাধীন জেটিতে নোঙর করা জাহাজ থেকে খালাসকৃত পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী যানবাহনে তলিয়ে যাচ্ছে একটি গ্রামীণ সড়ক। দেশের প্রথম ও বৃহত্তম মেরিন একাডেমির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ‘মেরিন একাডেমি-বদলপুরা সড়ক’ দিয়ে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স নামক একটি জেটি থেকে প্রতিনিয়ত পণ্যবাহী ২০-৩০ টন ওজনের ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটি বেহাল দশার পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়েছে মেরিন একাডেমির শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও স্থানীয় অর্ধ লক্ষাধিক বাসিন্দা।

স্থানীয়দের অভিমত, অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা যাচাই বাছাই না করে জেটি নির্মাণ করার অনুমোদন সরকার কিভাবে দেয় সেটি বোধগম্য নয়। জেটি হলে সেখানে নোঙর করা জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করে নিয়ে যাওয়ার মতো সড়ক আছে কিনা, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে কিনা এসব বিষয় খতিয়ে না দেখেই জেটির অনুমোদন দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এ অপরিকল্পিত জেটির ফলে শুধু গ্রামীণ সড়ক নয়, পুরো পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ সড়ক দিয়ে যান চলাচলের সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে, সড়কের কাজ না করে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স জেটির প্রতিদিন শত-শত গাড়ি চলাচল করে এ সড়কে। এতে একদিকে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ যানজট অন্যদিকে সড়কের এলাহি অবস্থা। তবে জেটি কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করেছে।

আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশল অধিদফত সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মেরিন একাডেমি-বদলপুরা সড়কটি বছরের শুরুতে কার্পেটিংয়ের কাজ করা হয়। তাছাড়া গত ২-৩ মাস আগে আবারও ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক বর্ধিতকরণের কাজ করা হয়েছে। এ সড়ক দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচলের কোন অনুমোদন নেই।

জানা যায়, কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড চলতি বছরের মার্চ ও জুলাই মাসে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি চট্টগ্রামের পাশে দুইটি জেটি স্থাপন করে। জেটি দুইটিতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টন পণ্য নিয়ে ২টি জাহাজ নোঙর করে। গত দুই মাসে এ জেটি দিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম ও আবুল খায়ের গ্রুপের দেড় লাখ টন পণ্য নিয়ে শতশত ভারী যানবাহন মেরিন একাডেমির ছোট পরিসরের গ্রামীণ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলে সড়টির বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যায়। এতে করে স্থানীয় লোকজনের চলাচলেও দুর্ভোগ দেখা দেয়। সড়কের কোন সংস্কার বা প্রসস্থকরণ না করে হঠাৎ করে এ ধরণের যান চলাচলে প্রতিদিন দুর্ঘটনা, যানজট ও দুর্ভোগ লেগে থাকার কারণে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় দাখিল মাদ্রাসার সুপার মওলানা কাজী জাকির হোসেন জানান, গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ এ সড়কটি দুই মাস আগেও চলাচলের উপযুক্ত ছিল, কিন্তু হঠাৎ করে ড্রাইডক জেটির প্রতিদিন শতশত ভারী যানবাহন চলাচল শুরু করলে সড়কটি অনেকটা তলিয়ে যায়। এখন মাদ্রাসায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ইউপি সদস্য মোরশেদ হোসেন জানান, কোন বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না করে কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটির গাড়ি চলাচলের কারণে সড়কের এ পরিণতি। এ সড়কটি হল গ্রামীণ সড়ক। ভারী যান চলাচলের কোন নিয়ম নেই।

উপজেলা প্রকৌশলী তসলিমা জাহান জানান, গতবছর সড়কটির সংস্কার কাজ করা হয়েছিল। কিন্ত গ্রামীণ সড়ক দিয়ে কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটির ভারী যান চলাচলের কারণে সড়কটি বেহাল হয়ে পড়ে।

তিনি আরও জানান, গ্রামীণ সড়ক দিয়ে ভারী যান চলাচলের কোন নিয়ম নেই। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

এদিকে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স কর্তৃপক্ষ তাদের জেটি থেকে পণ্য পরিবহণ নির্বিঘ্ন রাখতে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু মহলকেও ম্যানেজ করেছে। তাদের মাসিক মাসোয়ারা দিয়ে ম্যানেজ করেই এ জেটির কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.