অনলাইন ডেস্ক:
নারী কেলেংকারীর ফোনালাপের স্ক্যান্ডাল, বিভিন্ন ভিআইপিদের নিয়ে মোবাইলে নেতিবাচক আচরণ ও অর্থের বিনিময়ে অপহরণ কান্ড থেকে শুরু করে এমন কোন নেতিবাচক কান্ড নেই যা তিনি করেননি। সর্বশেষ এক সময়ের ব্যবসায়ী পার্টনার ব্যবসায়ী সাইফুলের প্রতিষ্ঠানে দলবল নিয়ে গিয়ে অফিসের লকার ভেঙ্গে চেক বই লুট করেছেন।
বলছিলাম চট্টগ্রাম মহানগরের কথিত যুবলীগ নেতা চান্দঁগাও এলাকার মৃত শামছুল আলমের ছেলে নওশাদ মাহমুদ রানা সম্পর্কে।
২০২১ সালের ৭ফেব্রুয়ারিতে আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোডের আর এস কর্পোরেশন এস এন ট্রেড লিমিটেড ৪র্থ তলা এস এন ট্রেড লিমিটেডের অফিস ভেঙ্গে ড্রয়ারের লকার থেকে চেক বই লুট করার অভিযোগে জোনায়েদ বিন ফারুক বাদী চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন নওশাদ রানার বিরুদ্ধে।
শুধু এখানেই শেষ লুট করা সাক্ষরিত তিনটি চেক বই নিয়ে লুট করে মামলা থেকে বাঁচার জন্য এস.এন ট্রেড লিমিটেডের সাইফুলের বিরুদ্ধে উল্টো চেকের মামলা দায়ের করেন চতুর যুবলীগ নেতা নওশাদ মাহমুদ রানা।
অথচ সেদিন তিনটি চেক বই লুট করার দৃশ্য সিসি টিভির ফুটেজেও স্পষ্ট, আর সাইফুলের অলিখিত চেকে কী পরিমাল অংক বসালে সাইফুলের কী পরিমাণ ক্ষতি হবে এমন একাধিক অডিও রেকর্ডও জমা আছে প্রতিবেদকের হাতে।
আইনজীবীরা বলছেন, গেলো ২০২০ সালের অক্টোবরের ১৬ তারিখে সাইফুলকে নগরীর আগ্রাবাদের একটি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে প্রকাশ্যে গুলি ফাটিয়ে অপহরণ করলে সেদিন সমগ্র বাংলাদেশের মিডিয়ায় মো. নওশাদ মুহাম্মদ রানার বিরুদ্ধে নিউজ প্রকাশিত হয়। পরে একইদিন গভীর রাতে নগরের জিইসিতে এনে চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে যায় অথচ সেই মামলায় নওশাদ রানা চার্জশীট ভুক্ত আসামিও। তাহলে ২০২১ সালে সেই অপহরণ মামলার আসামিকে কী কারণে সাইফুল ইসলাম চেক দিতে যাবেন? এটা আসলে হাস্যকর ছাড়া কিছুই নয়।
তবে অনুসন্ধানে প্রকৃত সত্য হলো, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারির সেই চেক লুটের মামলা ঠেকানোর জন্যই লুটকরা চেক বই দিয়ে ব্যবসায়ী সাইফুলকে ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠান।
তবে সাইফুলের অফিস ভেঙ্গে সই করা চেক বই চুরি করে কিভাবে সাইফুলকে ফাঁসানো যায় সেই বিষয়ে একাধিক আইনজীবীর সাথে সলাপরামর্শের রেকর্ড গুলিই প্রমান করে সাইফুলকে ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে ফাঁসিয়ে জেলে পাঠান অপহরণকারী কথিত সেই যুবলীগ নেতা নওশাদ রানা।
এদিকে সাইফুলের স্ত্রী জান্নাত আরা বলেন, চেকবই লুঠের পর সিসি টিভির ফুটেজসহ নিয়ে আমরা কোর্টে মামলা করেছি, অথচ এরপরে আমাদের মামলা ঠেকানোর জন্য লুঠকরা সইসম্বলিত চেক বইয়ের পাতা দিয়ে মনগড়া অংক বসিয়ে নওশাদ ও আমার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে।