শান্তিরক্ষা মিশনে ৭৫ নৌ সদস্য, দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলের তাগিদ

প্রকাশিত: ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১
চট্টগ্রাম ব্যুরো: জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন-ইউনিফিলে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার দূরে ভূ-মধ্যসাগরের দেশ লেবানন গেলেন নৌবাহিনীর ৭৫ সদস্য। দেশ ত্যাগের আগে নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল এম মোজাম্মেল হক মিশনে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার আহ্বান জানিয়েছেন।  বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নৌ বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি বিমান লেবাননের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তারা ভূ-মধ্যসাগরে লেবাননের বৈরুত বন্দরে মোতায়েন করা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘সংগ্রাম’-এ যোগ দেবেন।

বুধবার বিকেলে বিমানবন্দরে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সামরিক ও অসামরিক মিলিয়ে ৭৫ সদস্যের দলকে বিদায় জানান চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল এম মোজাম্মেল হক। বিদায়ের প্রাক্কালে নৌবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা বাংলাদেশ থেকে ছয় হাজার কিলোমিটার দূরে ভূ-মধ্যসাগরে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করতে শান্তিরক্ষা মিশনে যাচ্ছেন। আপনাদের দুই মাস ধরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেগুলো আপনারা অক্ষরে-অক্ষরে পালনের চেষ্টা করবেন। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কর্মকাণ্ড পরিহার করবেন। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে কাজ করবেন।’

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০১০ সাল থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়। আমিও সেই মিশনের একজন সদস্য ছিলাম। গত ১১ বছরে সেখানে নৌ-বাহিনীর ১১টি টিম মিশনে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। আপনাদের পূর্বসূরিরা মিশনে অত্যন্ত দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আরও ভালো কিছু করবেন, এই প্রত্যাশা আমরা করছি।’ করোনা মহামারিকালে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মনে রাখতে হবে, এখনও বিশ্ব থেকে করোনা মহামারি পুরোপুরি চলে যায়নি। আপনারা দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসুরক্ষা মেনে চলবেন। নিজেকে নিরাপদ রাখবেন।’

এর আগে, গত ৮ সেপ্টেম্বর নৌবহিনীর ৩৫ সদস্যের প্রথম দল লেবাননের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছেড়ে যায়। উভয় দল একই বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট ব্যানকন-১২ এর আওতায় লেবাননসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যে জলসীমায় শান্তিরক্ষা, সন্দেহজনক জাহাজ ও এয়ারক্রাফটের ওপর নজরদারি, অবৈধ অস্ত্র ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি লেবানিজ নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণে কাজ করবে।