ধর্মঘটে বেহাল দশায় চট্টগ্রাম বন্দর

ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ১৫ দফা দাবিতে কনটেইনার পরিবহনের প্রাইম মুভার (ট্রেইলার), কাভার্ডভ্যান ও ট্রাকসহ পণ্যবাহী গাড়ি বন্ধ রাখায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে পণ্যবাহী গাড়ি ঢুকতে পারেনি বন্দরে। ফলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, শিপিং এজেন্টসহ বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে। অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বন্দরের এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবির জেটি ও ইয়ার্ডে লোড-আনলোডে।

জানা যায়, আজ সকালে পণ্য ও কনটেইনার বহনকারী যানবাহনের চালক ও শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে সকাল থেকে মিছিল ও সমাবেশ করে। আমদানি করা পণ্য ডেলিভারি নিতে কোনো ট্রাক-কার্ভাডভ্যান এবং লরি বন্দরে ঢুকতে পারেনি। তেমনি বন্দরে ভেতরে থাকা গাড়িগুলোও সকালে বন্দর থেকে বের হতে পারেনি। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।

১৫ দফা দাবি উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের অগ্রিম আয়কর না নেওয়া, এ পর্যন্ত নেয়া অগ্রিম আয়কর ফেরত দেওয়া এবং ১০ বছর ধরে বন্ধ থাকা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চালকদের লাইসেন্স অবিলম্বে চালু করা। চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মাইনুদ্দিন বলেন, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ১৫ দফা দাবিতে ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। আমরা তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে পরিবহন বন্ধ রেখেছি।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘বন্দরে জাহাজে কনটেইনার ওঠা-নামা সচল রয়েছে। তবে লুজ কার্গো বা খোলা পণ্য পরিবহন, কনটেইনার থেকে ট্রাক বা ভ্যানে এবং বন্দরের কনটেইনার অফ ডকে যাওয়া বন্ধ আছে। তবে আশা করি আলোচনার মাধ্যমে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে।’

তবে বন্দর ব্যবহারকারীরা বলেন, জাতীয় অর্থনীতি বৈশ্বিক মহামারি করোনার ধকল সামলানোর আগেই পরিবহন ধর্মঘটে বন্দরে অচলাবস্থা সৃষ্টি আত্মঘাতী। সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকাসহ অনেক বন্দরে যেখানে জাহাজ জটে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে চট্টগ্রাম বন্দর কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে। এ ধরনের ধর্মঘটের কারণে তৈরি পোশাক রফতানির লিড টাইম, বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থান ইত্যাদিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আলোচনার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধান করা উচিত।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.