সাতকানিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজে বাধাঁ, সহিংসতায় আহত ৩জন

সাতকানিয়া প্রতিনিধি:
সাতকানিয়ায় চরতীর কেশুয়া এলাকার সাঙ্গু নদী থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের জন্য নদী থেকে মেশিন দিয়ে বালি তোলা হচ্ছে,আর সেই বালু তোলার পাইপ কৃষকের ফসলি জমির মাঝখান দিয়ে নেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ তোলেন চরতীর ৪নং ওয়ার্ডের কয়েকজন কৃষক।
আর সেই অভিযোগের সুত্রধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজে বাধা দেন স্থানীয় ফয়েজ আহমদ ও কায়সার সওদাগররা,পরে এক পর্যায়ে  ফয়েজ আহমদরা প্রায় ২০০জনের মত একটি দল পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজার মেশিন ভাঙচুর করলে ড্রেজার বহনকারী গাড়িও মেশিন এবং পাইপসহ অন্যান্য জিনিষ সামগ্রী ভাঙচুর চালায়,এতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অন্তত ২০লাখ টাকার মত ক্ষতি সাধন হয় বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজে দায়িত্বরত মোঃআবছার।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আরেক কর্মকর্তা ছবুর  বলেন,কায়সার গ্রুপরা বেশ কয়েকদিন  আগে কন্ট্রাক্টর থেকে ৩০লাখ টাকা চাঁদাদাবী করে আসছিলো আর সেই চাঁদার ক্ষোভে আজকে কায়সার গ্রুপরা আমরা যখন সরকারি কাজ করছিলাম তখন বাধা প্রদান করেন।
তিনি আরো বলেন তারা দুইদিক দিয়েই এসে আমাদেরকে গুলি করে সাঙ্গু নদীতে ভাসিয়ে দিতে চেয়েছিলো পরে আমরা যখন বসে গেছি তখন তাদের ছড়া গুলি তাদের হাতে পায়ে লেগেছে,এখানে রুহুল্লাহ চৌধুরী ছিলোনা তাকে টেনে আনা এখানে সমীচিন হবে বলে আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে যারা কাজ করছি তারা তা মনে করিনা।
অন্যদিকে কেশুয়ার আরেক কায়সার হামিদ বলেন,কায়সার সওদাগররা দুইদিকে অনবরত গুলি বর্ষন করার দৃশ্য আমরা দেখেছি,এবং তুলাতলি থেকে শতাধিক লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে কাজ করা লোকদের উপর হামলে পরে তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকেরাও ছাড় দেয়নি আত্মরক্ষার্থে তারাও পাল্টা হামলা চালায়।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আরেক কর্মকর্তা বলেন,আজকে যারা আহত বলতেছে তারা তাদের নিজেদের করা ছিঁটা গুলিতেই আহত হয়েছে অথচ তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অফিস সাতকানিয়া থানায় ইতিমধ্যে অভিযোগ দায়ের করেছেন,আর আজকের অভিযোগের বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে আবার  চরতীর কেশুয়ার রুহুল্লাহ চৌধুরী বলেন,আসলে আমি ছিলামনা কিন্তু পরে এলাকায় এসে খবর পেলাম কায়সার সওদাগর এবং ফয়েজ আহমদরা ২০০জনের মত লোক এসে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ করা লোকজনের উপর।
রুহুল্লাহ চৌধুরী আরো বলেন,বেশ কিছু মিডিয়ায় আমাকে নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছে কারণ স্থানীয় একটি জামাত শিবিরের বলয় কিছু আওয়ামীলীগনেতার শেল্টারে থাকেন,  তারা ভালো করেই জানে আমি আগামি ইউপি নির্বাচনে নির্বাচন করতে যাচ্ছি,তাই আমাকে জনরোষে ফেলার কু-মানষে তারা আজকের ঘটনার সুচনা করেন।
তবে আমি বলব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাজে কেউ বাধা প্রদান করা মানে ফৌজদারী অপরাধ,পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজে ব্যবহৃত গাড়ীকে ভেঙ্গে বিকল করে দেয়া হয় আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই।
এদিকে তুলাতলির মনসুরপাড়া এলাকার   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  একজন বলেন, চরতীর ৪নং ওয়ার্ডের বেশ কিছু লোক বন্দুক নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজার মেশিনের দিকে গিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়, পরে তাদেরকে ড্রেজার মেশিন চালানো লোকজনও পাল্টা  হামলা করেন।
আমি এখানে দীর্ঘকাল ধরে বসত করে আসছি এখানে এমপি মহোদয়ের শ্যালক রুহুল্লাহ চৌধুরীর গ্রুপ আছে সেটা পর্যন্তও কখনো শুনিনি। তার বিরুদ্ধে কুৎসা ছাড়া আর কিছুই নই।
এদিকে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয় সাংসদ প্রফেসর ড.আবু রেজা নদভী,তিনি ঘটনাস্থল পুংখানু পুঙ্খ ভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ঘটনাস্থলেই পুলিশ প্রশাসনকে কড়াঁ নির্দেশ দেন।
সাংসদ নদভী আরো বলেন ২কিলোমিটার দূর থেকে  চরতীর সাইফুল আর গিয়াস উদদীন খান মিন্টুর নেতৃত্বে ২০০জনের মত লোক এসে সরকারি কাজে বাধাঁ প্রদান করবে তা মোটেও সহ্য করা হবেনা,বেশ কয়েকদিন আগেও চরতীর মিন্টু আর সাইফুল গংরা ড্রেজিং এর চলা কাজ থেকে ৩০লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছেন যা সরকারি কাজে বাধা দেয়ার চরম উদাহরন!
সুতরাং আমি কষ্ট করে সরকার থেকে চরতীসহ সাতকানিয়া লোহাগাড়াবাসীর ভাগ্য উন্নয়নে নদী নিস্কাশনের জন্য ড্রেজিং কাজে  ৫৭৭কোটি টাকার প্রকল্প এনেছি,আর সেই প্রকল্পের কাজে চাদাঁদাবী এটা সাইফুল আর মিন্টুর দুঃসাহস, অতএব আমি প্রশাসনকে বলেছি মিন্টু আর সাইফুলদের চাদাঁবাজির সংঘবদ্ধ  চক্রকে থামানোর জন্য।
সাংসদ নদভী আরো বলেন,মিন্টু আর সাইফুল বিভিন্ন মিডিয়ায় ভুল তথ্য দিয়ে উন্নয়নমূলক কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ  করার পায়ঁতারায় লিপ্ত।
আমি প্রশাসনকে তাদের বিষয়ে জিরোটলারেন্স থাকতে বলেছি।
এবং পাশাপাশি গনমাধ্যমকে প্রকৃত সত্যটা কাভার করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
সাতকানিয়া থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন,পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে স্থানীয় কিছু লোকের বনিবনা না হওয়ার ক্ষোভেই মূলত আজকের এই ঘটনা ঘটে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজে কেন একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ বাধা দিবে! তা আমরা ইতিমধ্যে  তদন্ত শুরু করেছি।
দোষীদের বিষয়ে তদন্ত করে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি কাজে বাঁধা তা  মোটেও বরদাস্ত করা হবে।
অপরদিকে অভিযুক্ত চরতীর গিয়াস উদদীন খান মিন্টু গনমাধ্যকে বলেন,আমার নির্দিষ্ট কোন গ্রুপ নেই আমার বোন দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে তাই আমি বেশ কয়েকদিন ধরেই চট্টগ্রাম শহরে,এখন ডিজিটাল যুগ প্রশাসন তদন্ত করে বের করুক আমার কোন ধরনে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভাবে জড়িত কিনা।
মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.