পদ্মার ওপারে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করব: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১২:৫৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২১

 রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হয়ে যাওয়ার পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলেও আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলে জায়গা খুঁজছি। সেখানে শক্ত মাটির জায়গা পাওয়া খুবই কঠিন। তারপরও বিভিন্ন দ্বীপসহ ওই অঞ্চলে জরিপ করছি। রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র হয়ে যাওয়ার পর আমরা আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করব, যেখানে ভালো জায়গা পাই। আমার ইচ্ছা, পদ্মার ওপারেও করব। আশা করি, এ ব্যাপারে কোনো অসুবিধা হবে না।’

রোববার (১০ অক্টোবর) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) প্রথম পারমাণবিক চুল্লিপাত্র স্থাপন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কানফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এ কাজের উদ্বোধন করেন।

প্রধামন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলে যদি আমরা আরেকটা পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারি। তাহলে বিদ্যুতের জন্য আর কোনো অসুবিধা হবে না। তারপরও আমরা বহুমুখি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে যাচ্ছি এ জন্য যে, বিদ্যুৎ সুবিধা যেন মানুষ পায় এবং অব্যাহত থাকে।’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য সঞ্চালন লাইন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘পরমাণু শক্তি আমরা শান্তির জন্যই ব্যবহার করবো। পরমাণু শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। সেটা গ্রামের মানুষের কাছে যাবে। তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আশা করি, ২০২৩ সালের মধ্যে এখান থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিট শুরু করতে পারব।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে গড়তে চাই। এখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। কিন্তু এখানে থেমে গেলে চলবে না। ৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গড়বো। ২০৭১ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন হবে। নিশ্চয় নতুন প্রজন্ম একটি সুন্দর, উন্নত, সমৃদ্ধশালী ও আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ দেশ হিসাবে স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ২১০০ সাল পর্যন্ত ডেলটা প্ল্যানও করে দিয়েছি। যাতে এই দেশকে আর কোনোদিন পিছিয়ে পড়তে না হয়। আর যেন কোনও শকুনির থাবা না পড়ে বাংলাদেশের ওপর। উন্নতি ও অগ্রগতি অপ্রতিরোধ্য গতিতে যাতে এগিয়ে যায় সেটাই আমরা চাই।’

পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপণ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়তে রাশিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে সে দেশের সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যু কেন্দ্র প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ।

রিয়্যাক্টর ভবনের ভেতর থেকে চুল্লিপাত্র স্থাপনে নেতৃত্ব দেন রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মো. শওকত আকবর।