এবি পার্টি ক্ষমতায় এলে একজন ভিআইপি এবং একজন কৃষক একই নিয়মে সরকারী সুবিধা ভোগ করবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিজয়ের পঞ্চাশ বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে এবি পার্টি, চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা আজ নগরীর মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন হলে বিকাল তিনটায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব এ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। এবি পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক এডভোকেট গোলাম ফারুক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান মেহমান হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা এবং অবসরপ্রাপ্ত অনারারী কন্সাল জেনারেল অব জাপান, ইন চিটাগাং জনাব মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম ও এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব বিশিষ্ট জননেতা জনাব মজিবুর রহমান মঞ্জু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সহকারী সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব ছিদ্দিকুর রহমান, আনোয়ার সাদাত টুটুল ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সমন্বয়ক জনাব জিয়াউল হক চৌধুরী। সংবর্ধিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন এবি পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির অন্যতম সদস্য ও বিশিষ্ট শ্রমীক নেতা জনাব হারুনুর রশিদ, একাত্তরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের চট্রগ্রাম জোনের সহকারী কমান্ডার ও কমান্ডার বায়েজিদ জোন জনাব খোরশেদ আলম, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব ইঞ্জিনিয়ার এস ই ডেভিড (ইউসুপ), বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। প্রধান অতিথি এডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন- এবি পার্টি ক্ষমতায় এলে রাজধানীতে বসবাসরত একজন ভিআইপি এবং অজপাড়া গাঁয়ে বসবাসরত একজন কৃষক বা শ্রমিক একই স্ট্যান্ডার্ডে শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা ভোগ করবে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে অনৈক্য ও বিভাজন। তাই এবি পার্টি রাজনীতি অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা। এবি পার্টির রাজনীতি সফল হলে মুক্তিযোদ্ধারা তাঁর ভাতার জন্য সরকারি দপ্তর গুলোতে ঘুরতে হবে না, তাঁদের ন্যায্য অধিকার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, এদেশে মেধাবীরা থাকতে চাননা। কারণ এদেশে মেধা অনুযায়ী চাকুরির সুযোগ নেই। তাই কেউ আমেরিকায়, কেউ ইংল্যান্ডে অথবা অন্য কোন দেশে বৈধ অথবা অবৈধ পথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন- মুক্তিযুদ্ধ মানে কেবল অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ নয়। মুক্তিযুদ্ধ মানে মুক্তির জন্য যুদ্ধ। অজ্ঞানতা থেকে জ্ঞানের পথে, দারিদ্য থেকে দারিদ্র মুক্তির পথে, অশিক্ষা থেকে শিক্ষার পথে, অস্বাস্থ্য থেকে স্বাস্থ্যের পথে মুক্তির জন্য যুদ্ধ। এই যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। এসব অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ শেষ হবেনা পার্টির সদস্য সচিব জনাব মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন,-দেশকে স্বাধীন করার যুদ্ধে যারা অংশ নিয়েছেন এবং সমর্থন দিয়েছেন তাঁরা ইতিহাসের গৌরবৌজ্বল মানুষ। যে কোন জাতির মুক্তিযুদ্ধে সবাই অংশ নিতে পারেনা। আমাদের নবী স. যখন জুলুম ও কুফরীর বিরুদ্ধে ওহুদের যুদ্ধে যাচ্ছিলেন তখন অনেকেই নানা তালবাহানা করে যুদ্ধে অংশ নেয়া থেকে বিরত ছিলেন। ৭১ সালেও বহু সামর্থবান লোক মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়নি। যুদ্ধে অংশ না নেয়া একটা অক্ষমতা এটা অপরাধ নয়, কিন্তু যুদ্ধে অংশ না নিয়েও যারা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন বলে মিথ্যা ক্রেডিট নেন কিম্বা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যারা নানা কটুক্তি ও সমলোচনা করেন তারা জঘন্য অপরাধী, এরা মুনাফেকদের চাইতেও খারাপ। এদের কবল থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। এবি পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর সদস্য সচিব জনাব এডভোকেট সৈয়দ আবুল কাশেম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম সদস্য সচিব শহীদুল ইসলাম বাবুল, সহকারী সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাহেদ হাসান চৌধুরী, আব্দুর রহমান মনির,এডভোকেট নওশাদ আলী,জসিম উদ্দিন, জাবেদ ইকবাল, আব্দুল্লাহ আফিফ, ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজ উদ্দিন, তানভীর ফয়সাল, বোরহান উদ্দিন, এমডিএসএম নয়ন মোল্লা, ইদ্রিস শরিফ, রূপস বড়ুয়া রাজু, এস এম আইনান উল্লাহ, ইমাম হোসাইন, রাবেয়া আক্তার, আব্দুল মালেক, হুমায়ুন কবির, ইঞ্জিনিয়ার গিয়াসউদ্দিন, ফারুক আহমেদ, শাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
চট্টগ্রাম সংবাদ/ আই এইচ।
মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.