হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পাঁচ নেতার অবৈধ সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের সম্পদের বিবরণীয় চেয়ে সরকারের ১৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যদিও চলতি বছরের মে মাসে হেফাজতের প্রয়াত আমির জুনায়েদ বাবুনগরীসহ অন্তত ৫০ নেতার ‘অবৈধ সম্পদের’ খোঁজে মাঠে নামার কথা জানিয়েছিল দুদক।
বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান দুদক সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।
হেফাজতের যেসব নেতার বিরুদ্ধে তথ্য চাওয়া হয়েছিল তারা হলেন— হেফাজতের সাবেক নেতা মামুনুল হক, মাহফুজুল হক, আতাউল্লাহ আমিনী, জালাল উদ্দিন আহম্মেদ ও মোহাম্মদ মোহসিন ভূঁইয়া।
দুদক সচিব সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ),জেলা রেজিস্ট্রার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), জীবন বীমা করপোরেশন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), রিহ্যাব, বিআরটিএ, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ডাক বিভাগ ও তফসিলি ব্যাংকগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
দুদক পরিচালক মো. আকতার হোসেন আজাদের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি দল গঠন করা হয় গত ১৭ মে। দলের অন্য সদস্যরা হলেন, উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মোহাম্মদ নুরুল হুদা, সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ ও মো. সাইদুজ্জামান এবং উপ-সহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমান।
গত ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) হেফাজত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরী, নূর হুসাইন কাসেমী, মামুনুল হকসহ ৫৪ নেতার ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের তথ্য যাচাই-বাছাই করে। সেখানে তাদের হিসাবে গরমিল পাওয়া যায়। যার একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন দুদকে পাঠানো হয়।
১৯টি মাদরাসার তথ্য চেয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, দফতর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়েছিল দুদক। এরইমধ্যে ১৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত নিজস্ব আয়, সরকারি অনুদান, ব্যক্তিগত ও অন্যান্য দানসহ প্রতিষ্ঠানের অডিট প্রতিবেদন ও ক্যাশ বই সরবরাহ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ/ আই এইচ।