মানিকছড়িতে ইউএনও এবং এসিল্যান্ডকে অপসারণের দাবীতে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম 

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের
‘খামখেয়ালিপনায়’ নিহত চালক বাবুল মিয়ার পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ এবং ইউএনও ও এসিল্যান্ডের অপসারণসহ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং অবস্থান ধর্মঘট করেছেন স্থানীয়রা। বুধবার বেলা ১১টায় মানিকছড়ি উপজেলা সদরের
আমতল মোড় থেকে ‘এলাকার যুব সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে এই বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলটি খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আন্দোলনকারীরা ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন মাসুদ উজ জামান, শাহজালাল পারভেজ, জাহিদ রুবেল এবং যুবদল নেতা আবদুল মান্নানসহ আরও অনেকে। সমাবেশে বক্তারা ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেন। তারা অভিযোগ করে জানান, উপজেলা প্রশাসন একজন অদক্ষ চালককে জোরপূর্বক পে-লোডার সরাতে বাধ্য করেছিল, যার ফলে দুর্ঘটনায় ওই চালকের মৃত্যু হয়। প্রশাসনই তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত বাবুল মিয়ার পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দোষী কর্মকর্তাদের অপসারণ করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান বিক্ষুব্ধরা। পরে প্রশাসন ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিবের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

 

তবে দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আয়োজকরা। এর আগে গত ১২ এপ্রিল মানিকছড়ি উপজেলার বাটনাতলী ইউনিয়নের খলিপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার সংবাদ পেয়ে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই অভিযানে পাহাড় কাটায় ব্যবহৃত একটি পে-লোডার জব্দ করা হয়।

 

প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়েমূল চালক পালিয়ে যাওয়ায় পে-লোডারটি সরাতে স্থানীয় চালক বাবুল হোসেনের (৪৫) সহায়তা নেয় প্রশাসন। পে-লোডারটি সরাতে গিয়ে হঠাৎ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বাবুল। প্রথমে তাকে মানিকছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ এপ্রিল সকালে তার মৃত্যু হয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.