খাগরিয়ার ফুলে বারুদের গন্ধ!

অনলাইন ডেস্ক: এক সময়কার সন্ত্রাসের জনপদ সাতকানিয়ার খাগরিয়া। এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুইগ্রুপের মধ্যে বার বার দাঙ্গা, খুনোখুনির কারণে বেশ বদনাম ছিল ললাটে। পরে সন্ত্রাসের জনপদ ‘বদনাম’ ঘুচিয়ে ফুল সৌরভ ছড়ায় খাগরিয়ায়। ইউনিয়নের একটি অংশে ব্যাপকহারে ফুল চাষ শুরু করে মানুষ। এক পর্যায়ে খাগরিয়া ফুলের সৌরভে সন্ত্রাসের জনপদের বদনাম ঘুচিয়ে অর্জন করে সুখ্যাতি। দেশের প্রথম সারির খবরের কাগজ ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে খাগরিয়ার ফুল চাষ নিয়ে সংবাদ হয় অহরহ। ফলে খাগরিয়ার অপর নাম হয়ে উঠে ‘ফুল গ্রাম’।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি সাতকানিয়ার ১৬টি ইউনিয়নে নির্বাচনের দিন ব্যাপক ষসংঘর্ষ হয়। ভোটকেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে মুহূর্মুহু গুলির শব্দে খাগরিয়া পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। ফুলের সৌরভের বদলে গন্ধ ছড়ায় বারুদ। বারুদের গন্ধে ¤øান হয়ে যায় ফুলের গন্ধ। ফুল চাষের জন্য প্রসদ্ধি খাগরিয়া ফিরে অতীতের সন্ত্রাসের জনপদে। গোলাগুলির ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হলে নতুন করে সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে আলোচনায় আসে খাগরিয়ার নাম। এ নিয়ে কি ভাবছে খাগরিয়ার মানুষ? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে কথা হয়েছে বেশ কয়েকজনের সাথে। তাদেরই একজন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। তিনি বলেন, খাগরিয়ায় ভোটের দিন যা ঘটেছে তার চেয়ে প্রচার হয়েছে বেশি। এ কারণে খাগরিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে চরমভাবে। খাগরিয়ায় একটি গোষ্ঠি রয়েছে, তারা দাঙ্গাবাজ। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার জন্য সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ভোটের আগের রাতে দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পার্থ সারথী চৌধুরীর উপর হামলাকারীরাই হচ্ছে খাগরিয়ায় সন্ত্রাসের মূলহোতা। তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ভোটের দিন গোলাগুলি ছাড়া এর আগে বেশ ভালই খাগরিয়ার জনগণ। ভোটের দিনের অস্ত্রবাজিতে নতুন করে নেতিবাচক প্রচারণার শিকার হলো। অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে প্রশাসন খাগরিয়ার ললাটে লেগে যাওয়া ‘সন্ত্রাসী’ তকমা সরাতে পারে।
ভোটের দিনে খাগরিয়ার অস্ত্রবাজিতে বেশ অস্বস্তিতে প্রশাসন ও রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ। গোলাগুলির সময় মিডিয়ার ক্যামেরায় ধরা পড়াদের অধিকাংশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আকতার হোসেনের হয়ে কেন্দ্র দখল করার জন্য অস্ত্রবাজী করেছে বলে অভিযোগ। ক্যামরায় ধরা পড়া বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আকতার হোসেনকে ফুলের মালা পরিয়ে দেন, আবার আকতার হোসেনও একজনকে ফুলের মালা পরিয়ে দেয়ার ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এনিয়ে চলছে তোলপাড়। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগ অস্বস্তিতের রয়েছে বলেও মনে করেছেন সচেতন মহল।
ভোটের দিন খাগরিয়ায় গোলাগুলির ঘটনায় বেশ অস্বস্তিতে প্রশাসন ও ক্ষতাসীন দল আওয়ামী লীগ। মিডিয়ার ক্যামেরায় ধরা পড়াদের অধিকাংশ অস্ত্রধারী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আকতার হোসেনের হয়ে কেন্দ্র দখল করার জন্য গোলাগুলি করেছে বলে অভিযোগ। ক্যামরায় ধরা পড়া আট অস্ত্রধারীর মধ্যে
সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, খাগরিয়ার অস্ত্রবাজির ঘটনা খুবই দুঃখজনক। সাতকানিয়া হচ্ছে জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকা। তারাতো (জামায়াত-শিবির) আকাশে উঠে যায়নি। তারা বিভিন্ন উপায়ে আমাদের মধ্যে প্রবেশ করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছি।
গতকাল সাতকানিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সময় সংঘাতপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বাজালিয়া, খাগরিয়া ও নলুয়া এলাকা পরিদর্শন করেন তারা।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (অপরাধ) জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার রশিদুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আফরুজুল হক টুটুল, চট্টগ্রাম দক্ষিণের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ও সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শিবলী নোমান।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক গোলাগুলি, মারামারি, সংঘর্ষ ও কিশোরসহ দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাতকানিয়া পরিদর্শন করেছেন। পুলিশের মাঠপর্যায়ের সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তারা।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.