নাশকতার মামলা : আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু

সীতাকুণ্ড থানায় নাশকতার অভিযোগে দায়ের হওয়া তিন মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একটি মামলায় আগামী ১৭ জুন এবং দুইটি মামলায় আগামী ৩১ আগস্ট থেকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সারোয়ার আলম ও চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ অশোক কুমার দত্তের আদালত অভিযোগ গঠন করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সারোয়ার আলমের আদালতে সীতাকুণ্ড থানার মামলা নম্বর ৪৫(১১)১৩ ও স্পেশাল মামলা নম্বর- ১৭৬/১৫ ও চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ অশোক কুমার দত্তের আদালতে একই থানার মামলা নম্বর- ১৫(১১)১৩ ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল মামলা নম্বর-২৩৬/১৫ ও একই থানার মামলা নম্বর- ২৮(১১)১৩, স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল মামলা নম্বর- ১৫৭/১৫ অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের আন্দোলন চলাকালে ২০১৩ সালের নভেম্বর সীতাকুণ্ড থানার বিভিন্ন সড়কে যানবাহন ভাংচুর, গাড়িতে আগুন দেওয়াসহ নাশকতার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এই তিনটি মামলা হয় সীতাকুণ্ডে থানায়।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত ৫ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট রতন চক্রবর্তী  বলেন, দুই মামলায় আসলাম চৌধুরীসহ আসামিদের উপস্থিতিতে আদালত অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন। আদালত মামলা দুইটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য রেখেছেন।

আসলাম চৌধুরীর আইনজীবী নাছিমা আক্তার চৌধুরী বলেন, সীতাকুণ্ড থানার তিন মামলায় দুই আদালতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়েছে। আসলাম চৌধুরীকে তিন মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে তিন মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এক কর্মকর্তার সঙ্গে ‘সরকার উৎখাতের’ জন্য আলোচনা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালে দিল্লি ও আগ্রার তাজমহল এলাকায় ইসরায়েলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা-সাক্ষাতের বেশ কিছু ছবি প্রকাশিত হলে দেশ-বিদেশে তোলপাড় হয়।

২০১৬ সালের ১৫ মে সন্ধ্যায় রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে আসলাম চৌধুরী ও তার ব্যক্তিগত সহকারী মো.আসাদুজ্জামান মিয়াকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর)। পরে তাদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরদিন ১৬ মে ৫৪ ধারায় (মোসাদ কানেকশনে সরকার উৎখাতে ষড়যন্ত্রের সন্দেহ) গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আদালত ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর ওই বছরের ২৬ মে আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দায়ের করা হয় রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলাটি। দণ্ডবিধির ১২০ (বি), ১২১ (৩) ও ১২৪ (এ) ধারায় ডিবির ইন্সপেক্টর গোলাম রাব্বানী বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.