চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সম্মেলন ও নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উজ্জীবিত হয়েছেন নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ ১১ বছর পর দক্ষিণ জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন আগামী ২৮ মে অনুষ্ঠিত হতে হবে। দীর্ঘদিন পর কমিটি হওয়ার খবরে সাবেক ছাত্রনেতারা নানা তদবির করছেন।
ইতিমেধ্যই শীর্ষ পদপ্রত্যাশীরা দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশপথ শাহ আমানত নতুন ব্রীজ এলাকা, মইজ্জারটেক, ক্রসিং, কলেজ বাজারসহ ডিজিটাল ফেস্টুন, ব্যানার ছেয়ে গেছে। পটিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলায় ফেস্টুন, ব্যানার, তোরণ ও বিলবোর্ডে ভরে গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, এরই মধ্যে পদপ্রত্যাশী নেতারা সম্মেলন সফল করার আহ্বান জানিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকাসহ সম্মেলনের স্থান পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে ফেস্টুন, ব্যানার, তোরণ ও বিলবোর্ড লাগিয়েছেন। তবে সম্মেলনকে ঘিরে ফেসবুকেও চলছে প্রচার-প্রচারণা।
দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৫২ জন জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। এখান থেকে যাচাই-বাছাই করে সম্মেলনের মাধ্যমে যুবলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হবে। দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- সভাপতি পদে দক্ষিণ জেলা যুবলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক পার্থ সারথী চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মিন্টু, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফারুক, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটি সদস্য ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সদস্য এমএ রহিম, জেলা যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আজম শেফু, বোয়ালখালী পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নুরুল আমিন, বোয়ালখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মাহবুবুল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যাল ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রাশেদ হোসাইন, আরমান হেলালী, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য জামিল উদ্দীন, জেলা যুবলীগের সহ দপ্তর সম্পাদক রাজু দাশ হিরু ও সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক এস এম আজিজ।
একটি সূত্র জানায়, দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটি গঠনে নিয়ামক ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। ইতিমধ্যে সভাপতি পদে ভূমিমন্ত্রীর সমর্থন সভাপতি পদে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক মো. ফারুকের প্রতি এবং বিপ্লব বড়ুয়া সমর্থন রয়েছে আরেক সভাপতি প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক নাসির উদ্দীন মিন্টুর প্রতি। তবে ফারুকের বিরুদ্ধে জনি হত্যার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। যদিও মামলার চার্জশিট থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সভাপতি পদে আসার সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক পার্থ সারথী চৌধুরীর।
সাধারণ সম্পাদক পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আবু সাদাত মো. সায়েমের। কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে গভীরভাবে। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে যুবলীগের ব্যানারে নানা কর্মসূচি পালন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।
সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক, জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি ও কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দিদারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সম্মেলনকে সফল করতে ২০১ সদস্য বিশিষ্ট সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া সম্মেলনকে সুচারুভাবে সফল করতে গঠন করা হয়েছে ১২টি উপ কমিটি। প্রায় ২০০ জনের জন্য মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে কারা বসবেন সেটা কেন্দ্রীয় যুবলীগ ঠিক করে দেবে।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালে মৌলভী সৈয়দকে সভাপতি ও মোছলেম উদ্দিন আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে দক্ষিণ জেলা যুবলীগের প্রথম কমিটি গঠিত হয়। সর্বশেষ ২০১০ সালে ২৩ জুলাই আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরীকে সভাপতি ও অধ্যাপক পার্থ সারথীকে সাধারণ সম্পাদকে কেন্দ্রীয় যুবলীগ কমিটি ঘোষণা করে। এই কমিটিই ২০১২ সালের ৬ জুলাই ৭১ সদস্য বিশিষ্ট দক্ষিণ জেলা যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে।