সাতকানিয়া প্রতিনিধি:
মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ ওঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বিল্লাপাড়া নামক এলাকায় ২০ জুলাই বেলা এগারোটার এঘটনা ঘটে।
ছদাহার বিল্লা পাড়া এলাকার রফিক আহমদ এর সাথে স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইউনুস, জাহেদুল ইসলাম শিবলি, আবুল কাশেম বদ, হাসিনা আক্তার, সানজিদা আক্তার ইশলী, শাহিদা আক্তার, আমির হোসেন সহ অজ্ঞাত নামা আরও কয়েকজনের সাথে পূর্ব হইতে জমিজমাসহ পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়া বিরোধ চলে আসছিলো।
উক্ত বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা মোকদ্দমা চলমানও আছে । উক্ত মামলার বিষয় নিয়া বিবাদীগণ প্রায় সময় বাদী ও বাদীর পরিবারের লোকজনদেরকে আমাদের দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি প্রদান করে আসছিল ।
উপরোক্ত ঘটনার বিষয়ে সাতকানিয়া থানায় দায়ের করা অভিযোগের বাদী রফিক আহমদ বলেন, গত ২০ই জুলাই ২০২২ ইং তারিখ সকাল বেলায় আমার স্ত্রী জিন্নাতুল নাঈমা ( ৩২ ) মেয়ে রাফিয়া সুলতানা রীখি ( ০৮ ) কে নিয়া খোদ্দ কেঁওচিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘোষিত অনলাইন ফরম জমা দিয়া নিজ বাড়ীতে আসার সময় বেলা অনুমান ১১.৩০ ঘটিকার সময় বাদীর বসত বাড়ীর সামনে উঠানে আসা মাত্র উপরোক্ত বিবাদীগণ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাতে ধারালো দা , কিরিচ , লোহার রড , লাঠি শোটা ইত্যাদি নিয়া বসত বাড়ীর উঠানে আসিয়া আমার স্ত্রীকে মামলা প্রত্যাহার করিয়া নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে ।
তখন আমার স্ত্রী জিন্নাতুল নাঈমা মামলা প্রত্যাহার করে নিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আমাদের পূর্ববর্তী মামলার বিবাদীগন ক্ষিপ্ত হইয়া তাহাদের হাতে ধারালো দা দ্বারা আমার স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাহার মাথার পিছনে কোপ মেরে মারাত্মক রক্তাক্ত কাটা জখম করে ।
আরেক বিবাদী তাহার হাতে থাকা কিরিচ দ্বারা আমার স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাহার মাথার তালুর অগ্রভাবে কোপ মারিয়া গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম করে । এরপর আরেকজন তাহার হাতে থাকা লোহার রড দ্বারা আমার স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করিয়া বারি মারিলে আমার স্ত্রী উক্ত আঘাতটি বাম হাত দিয়া প্রতিহত করার সময় তাহার বাম হাতের তর্জনি আঙ্গুলে লাগিয়া সামান্য রক্তাক্ত ফাটা জখম হয় । আমার স্ত্রী গুরুতর জখমী অবস্থায় মাটিতে পড়িয়া গেলে বিবাদীগণ আমার স্ত্রীকে এলোপাতাড়িভাবে কিল , ঘুষি , লাথি মারিয়া তাহার হাতে , পায়ে পিঠে পেটে সহ শরীরের বিভিন্নস্থানে ফুলা জখম হয় । একপর্যায়ে বিবাদীগন আমার স্ত্রীর গলায় থাকা ১২ আনা ওজনের ০১ টি স্বর্ণের চেইন , মূল্য অনুমান ৬০,০০০ / – টাকা নিয়া নেয় । আমার স্ত্রীকে মারধর করিতে দেখে আমার মেয়ে রাফিয়া সুলতানা রীথি ( ০৮ ) কান্নাকাটি করিলে বিবাদীগণ আমার মেয়েকে মারধর করার ভয় দেখায় ।
পরবর্তীতে আমার স্ত্রীর ডাক চিৎকারে ও আমার মেয়ের কান্নাকাটি শুনে আশপাশ হইতে লোকজন আসতে দেখে বিবাদীগণ উক্ত ঘটনার বিষয়ে আইনের আশ্রয় নিলে আমাদের পরিবারের সবাইকে প্রাণে হত্যা করিবে মর্মে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে চলে যায় ।
আশপাশের লোকজনের সহায়তায় জনৈক মোঃ আলমগীর হোসেনের অটোরিক্সা যোগে আমার স্ত্রীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করিয়া সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া যান ।
আমি উক্ত ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমার কর্মস্থল হইতে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই । সেখানের কর্তব্যরত ডাক্তার আমার স্ত্রীর অবস্থা আশংকাজনক ও আমার স্ত্রী অন্তস্বত্ত্বা হওয়ার কারণে আমার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করিলে আমি আমার স্ত্রীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৮ নং ওয়ার্ডের ৯০ নং সিটে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি ।
এব্যাপারে অভিযুক্ত ইউনুস বলেন, আমরা মারধর কিছুই করিনি এসব আমাদেরকে ফাঁসানোর জন্য নিজে নিজে সাঁজিয়েছে।
মামলার বিষয়ে সাতকানিয়া থানা সুত্রে জানা যায়-তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।