চট্টগ্রামের সকল সরকারি অফিস নিয়ে গণশুনানির আয়োজন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতে নগরের যেকোনো সরকারি সেবা পেতে হয়রানি বা দুর্নীতির শিকার ভুক্তভোগীদের অভিযোগ শুনবে। তবে এতো ঘটা করে শুনানির আয়োজন করলেও তাদের এ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।
বুধবার (৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শহীদ বীরোত্তম অডিটোরিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, অডিটোরিয়ামে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সেবাগ্রহীতারা এসে ভিড় করেছেন। তবে তাদের ‘অব্যবস্থাপনার’ কারণে প্রতিষ্ঠানের অনেক প্রধানরা দাঁড়িয়ে আছেন। তারা দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে বিরক্ত প্রকাশ করছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেলের পরিচালক এবং কলেজের অধ্যক্ষসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধানরা মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মুস্তফা কামরুল ইসলাম সিভয়েসকে বলেন, ‘এতো ঘটা করে গণশুনানির আয়োজন করেছে কিন্তু বসার কোনো ব্যবস্থা রাখেননি। আমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বসার সুযোগ পাননি।’
একই বক্তব্য সিটি করপোরেশন আরেক কর্মকর্তার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি অনিয়ম নিয়ে আয়োজন করেছে কিন্তু তাদের নিজেদেরই ব্যবস্থাপনার ঠিক-ঠিকানা নাই। এটাও তো অনিয়ম। যেহেতু গণশুনানি, এটা একটা খোলা জায়গায় করলেও পারতো। এতো মানুষের ভিড়ে আমাদেরই তো খুঁজে পাওয়া যাবে না।’
আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবো। সেই ৯টায় শুরু হওয়ার কথা। শুরু হলো ১০টায়। খেয়াল করলে দেখবেন এটাই কিন্তু অনিয়ম। আর কিছু বলতে পারছি না। গরমে কাহিল অবস্থা!’
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনোর (অনুসন্ধান) ড. মো. মোজাম্মেল হক খান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিন, দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) এ কে এম সোহেল, সিএমপির কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, দুদকের চট্টগ্রাম বিভগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. মাহমুদ হাসান, চট্টগ্রাম মহানগর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী।