সাতকানিয়া : ওসি-এএসপির ‘যৌথ এ্যাকশন’- ২ কোটি ২০লক্ষ টাকার মাদক উদ্ধার

সৈয়দ আককাস উদদীন, সাতকানিয়া:

বিরল বাঁজিমাত অল্পসময়ে নিয়ন্ত্রণে এসেছে মাদকনেশা, কাঁপতে বসেছে কারবারীরা, তটস্থ হতে শুরু হলো অপরাধীরা, নির্ঘুম প্রায় সবলুঠেরা সর্বশান্ত হতে বসেছে প্রকৃত দখলবাঁজরা। পালাতে শুরু করল অস্ত্রবাঁজরা, এমনকি! কাঁদতে শুরু করেছে তাদের সাঙ্গপাঙ্গরাও।

উপরোক্ত কথাগুলি বলা হচ্ছিল চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বর্তমান ওসি তারেক হান্নান ও এএসপি শিবলী নোমানের সময়কে ঘিরে।

অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে সাতকানিয়ায় এখন বেশী আতংকে রয়েছে অস্ত্রবাঁজ ও মাদককারবারীরা।

গেল ৬ মাসে মাদকব্যবসায়ী ও মাদকের গডফাদারদের ঘুমকে হারাম করে মাদকের রাজ্যে একেরপর এক দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করে সমগ্র চট্টগ্রামকে নিজস্ব স্বকীয়তার আলাদা পরিচয়কে জানান দিয়েছেন সাতকানিয়া থানা পুলিশ প্রশাসন।

আর এই দাপুটে -বিরল অভিযানগুলি মাত্র অল্পসময়েই সফল ভাবে সম্পন্ন হলো সাতকানিয়া সার্কেলের এএসপি শিবলী নোমানের চৌকস নেতৃত্বে এবং সাতকানিয়া থানার বর্তমান ওসি তারেক হান্নানের হাত ধরেই।

মাদকের রাজ্যে খুব অল্পসময়েই হানা দিয়ে এএসপি শিবলী নোমান ও ওসি তারেক হান্নান হয়ে ওঠেন অত্র জনপদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

সাতকানিয়া থানাকে করেছেন জনবান্ধবমুখি এবং জনমনে আস্থার আশানিয়া জাগাতে সক্ষম হয়েছেন শিবলী নোমানও ওসি তারেক হান্নানের টীম।

এদিকে-পুরো চট্টগ্রামে খুব অল্পসময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ইস্যু হয়ে ওঠে মাত্র ৭মাসে সাতকানিয়া থানা পুলিশের ২কোটি ২০লক্ষ টাকার মাদক উদ্ধারসহ মাদককারবারী আটকও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাসমূহ -সেই ইস্যুকেই হাতে নিয়ে মাঠে নামে দৈনিক চট্টগ্রাম সংবাদের একটি অনুসন্ধানী টীম

অনুসন্ধানী টীমের হাতে আসা শুরু হল-প্রতিটা মাদক উদ্বারে এবং প্রতিটা উদ্ধারের সাথে সাথে কারবারীদের আটকের নতুন নতুন চিন্তাচেতনাও নতুন কৌশলে অপরাধীদের পাকড়াঁও করার অনেকটা অবিশ্বাস্য সব কাহিনী।

এদিকে সরেজমিনে প্রতিটা মাদকের ঘটনার পেছনের ঘটনা জানতে অনুসন্ধানী টীম সাতকানিয়া থানায় গেল ৬ মাসের মাদকও অস্ত্র মামলার রেকর্ড পর্যালোচনা করেন-নথিপত্রও মাসিক রিপোর্ট পর্যালোচনা করে ২কোটি ২০লক্ষ টাকার মাদকও উদ্ধার এবং মাদক আটকের সময় ৬৯জন-আসামীও আটক।

ওই সময়ে আসামীদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়েছে ৬৯টির মত মামলা।

তার মধ্যে উদ্ধার করা হলো দেশীয় তৈরী ২টি অস্ত্র, সেখানেও আটক হয়েছে ২জন আসামী,এবং ওই অস্ত্রবাঁজির ঘটনায়ও নেয়া হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক ২টি মামলা।

ওসি এএসপির নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা প্রদানের বাঁজিমাত শুধু মাদকের সেক্টরেই শেষ নয়-গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্তির ক্ষেত্রে এই ৬মাসে রয়েছে ১০০% ওয়ারেন্ট তামিল।

 

সাতকানিয়া থানায় আগত সেবাপ্রার্থীরা কোন ধরনের ফি ছাড়াই জমা দিচ্ছেন তাদের অভিযোগও জিডি,এমনকি মামলা করতেও ওসি এএসপি এবং কোন এসআই এএসআইদেরও দিতে হচ্ছেনা কোন টাকা পয়সা।

গত ৬মাসেই কোন মামলা মোকদ্দমা করতে টাকা খরচ হয়েছে বলে কোন তথ্য এই অনুসন্ধানী টীমের হাতে আসেনি।

পাহাড়কাটা, মাটিকাটা অবৈধ বালু উত্তোলনে সাতকানিয়া থানা পুলিশ রয়েছে জিরোটলারেন্সে।

অপরদিকে বাল্যবিবাহ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিকব্যাধি রোধে এএসপি শিবলী নোমানের কড়াঁ নির্দেশে প্রতি মুহূর্তে মাঠে কঠোর ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় ওসি তারেক হান্নানকে।

সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়নও একটি পৌরসভার সকল অপরাধ নির্মূলে ওসি তারেক হান্নানও এএসপি শিবলী নোমান প্রতিনিয়ত সাধারণ জনগনের সাথে মিশছেনও জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করে যাচ্ছেন।

তারা -পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন বিট পুলিশিং কার্যক্রম। সেখানে দুজনেই সকল শ্রেনীর মানুষের কথা উপলব্ধি করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এদিকে সাতকানিয়া থানায় আসা রুবেল উদদীন রুকন নামে সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের এক ব্যক্তি বলেন-যে কোন সমস্যার জন্য গেলে বর্তমান ওসি তারেক হান্নানকে সহজ ভাবেই সবকিছু খোলে বলা যায় -তিনি খুবই আন্তরিক এবং সেবাপ্রার্থীদের উল্টো আপ্যায়ন করান।

ঠিক একই কথা বলেন-সাতকানিয়া কেরানীহাটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীও ন্যাশনাল বিল্ডার্সের চেয়ারম্যান মঈন উদদীন বলেন-আসলে এরকম মিশুক খুব ওসি ও এএসপি খুব কম আসছে, ওসি আর এএসপি হলেন পুরোপুরিভাবে জনবান্ধব,ও গরীবের দরদী।

আমরা সাতকানিয়াবাসী চাই-তারা দুজনের নেতৃত্বে আরো সু-শৃঙ্খলায় ফিরে আসুক এই জনপদ।
দূর হোক সমাজের সকল অপকর্ম।

এদিকে এওচিয়ার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু সালেহ বলেন-সাতকানিয়াকে শান্ত পরিবেশে রাখার জন্য আসলেই ওসি আর এএসপি  ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য, আমি তাদের জন্য শুভকামনা করি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.