নৌকা প্রতীক না পেলেও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবে না কেউ

মো. ইমরান হোসাইন, আনোয়ারা:

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ না হলেও চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের নৌকার মাঝি হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্থায়ী বেড়িবাঁধ, মাদক মুক্ত সমাজ ও আধুনিক মডেল ইউনিয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে উপকূলীয় এ ইউনিয়নে অর্ধ ডজন প্রার্থী মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন প্রতিদিন। তবে দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করলেও শেষ পর্যন্ত সবার অভিভাবক হিসেবে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও দল যাকে মনোনীত করবে তাঁর পক্ষেই কাজ করবেন বলেও জানান মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

জানা যায়, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আনোয়ারার উপকূলীয় রায়পুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য অর্ধ ডজন প্রার্থী ভোটারদের প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, চালাচ্ছেন নিজের প্রচার-প্রচারণাও। ইউনিয়নের বিভিন্ন, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরের উন্নয়নের কাজে করে যাচ্ছেন সহযোগিতাও। নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান জানে আলম, উপজেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ আবুল হাসান কাশেম, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. আমিন শরিফ, উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ছালামত উল্লাহ চৌধুরী ও জেদ্দা মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল কাদের চৌধুরী।

আগামী নির্বাচনে প্রার্থীতা নিয়ে আলোচনা কালে বর্তমান চেয়ারম্যান জানে আলম ‘দৈনিক চট্টগ্রাম সংবাদ’ পত্রিকার প্রতিবেদককে জানান, করোনা মহামারির মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে ছিলাম। মাননীয় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির সহযোগিতায় ইউনিয়নে বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন কাজ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলোতে স্ট্রিট লাইট বসিয়ে ইউনিয়নকে আলোকিত করেছি। পুনরায় নির্বাচিত হলে মাদক কারবারীদেরকে আইনের আওতায় আনার চেস্টা করব এবং আধুনিক মডেল ইউনিয়ন গঠনে কাজ করব। আশা করি আমি আবারো দলীয় মনোনয়ন পাব। তবে আমার রাজনৈতিক অভিভাবক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি মহোদয় ও দল যে সিদ্ধান্ত দেবে তা মেনে নেব।

মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ আবুল হাসান কাশেম জানান, প্রয়াত নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ভাইয়ের হাত ধরে রাজনীতিতে এসে জীবনের অধিকাংশ সময় দলের জন্য ব্যয় করেছি। কখনো দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাইনি। মাননীয় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ অভিভাবক হিসেবে যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটায় মেনে কাজ করে যাব। মনোনয়ন পেয়ে আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে শিক্ষার মান উন্নয়নের কাজ করে যাব এবং নতুন প্রজন্মদের সাথে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আমিন শরীফ বলেন, দলের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে মাননীয় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির সহযোগিতায় মসজিদ, মাদ্রাসা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে প্রায় ১ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ৩০টি গভীর নলকূপ স্থাপন করেছি। আগামীতে যদি দলের মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই, তাহলে রায়পুর ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করব। তবে দলের বাইরে গিয়ে কোন নির্বাচন করব না। আমার অভিভাবক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির সিদ্ধান্ত যেটা দিবেন সেটায় মেনে নিয়ে কাজ করব।

উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ছালামত উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ১৯৮৭ সালে ওমর গণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি সদস্য হয়ে রাজনীতি শুরু করেছি। কখনো বাবু ভাইয়ের পরিবার ও দলের বাইরে যাইনি। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, দুর্নীতি ও মাদক মুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করব।

জেদ্দা মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত হয়ে রাজনীতি শুরু করেছি। প্রবাসে গিয়ে জেদ্দা মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সৌদি আরব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু স্মৃতি সংসদের সহ সভাপতি দায়িত্ব পালন করছি। আমার দাদা তৎকালীন জমিদার সর্দার আলী চৌধুরীও মানুষের সেবা করে গেছেন। আমি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে শিক্ষা ব্যবস্থা, স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও যুব সমাজকে মাদক মুক্ত করতে কাজ করব। তবে আমার অভিভাবক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি মহোদয়ের সিদ্ধান্তের বাইরে যাব না।

এদিকে ভোটারদের প্রত্যাশা যার মাধ্যমে ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হবে, সমাজ হবে মাদকমুক্ত এমন উপযুক্ত ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার। স্থানীয় বৃদ্ধ আবদুল গণি (৬৫) বলেন, মাদকের সাথে জড়িত এমন ব্যক্তি যেন মনোনয়ন না পায়। আবদুস সালাম (৬০) বলেন, আমাদের দাবী দ্রুত বেড়িবাঁধের অসমাপ্ত কাজ যেন আমাদের রক্ষা করে।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে ১১ এপ্রিল ভোট গ্রহণের মধ্যদিয়ে দেশের ৩৭১ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হবে। দেশের সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কয়েক ধাপে শুরু হবে। ৬ষ্ঠ ধাপে শুরু হওয়া তালিকায় রয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায়। আর এ নির্বাচন হবে আগামী জুন মাসে।

জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম.এ মালেক বলেন, ‘প্রতিটি ইউনিয়নে দলের একাধিক প্রার্থী থাকতে পারে। আমরা যাচাই-বাছাই করে তৃণমূলের মতামত, দলের মনোনয়ন বোর্ড এবং মাননীয় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির মতামতের ভিত্তিতে যোগ্য ব্যক্তিকে দলের প্রার্থী করা হবে।’

মো. ইমরান হোসাইন #২১.০৩.২০২১ইংরেজি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.