মহেশখালী প্রতিনিধি:
দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীস্থ মাতারবাড়ীর উত্তর পুর্ব পাশে পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ডউয়াখালীর পশ্চিমে অবৈধ ভাবে কোহেলিয়া নদীর চর দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে চিংড়ী ঘের। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিট কর্মকর্তারা মাসোহারা নেওয়ার কারণে সরকারী বনের বাইন গাছ নিধন করে চিংড়ি ঘের নিমার্ণ করার। জানাগেছে, মগনামা ইউনিয়ের ছনুয়া রেঞ্জের আওতাধীন উজানটিয়া বনবিটের অধীনস্থ মহেশখালী-মাতারবাড়ীর উত্তর পুর্ব পাশে সৃজিত প্যারাবনের বড় বড় বাইন গাছ কেটে চলছে চিংড়ী ঘের নির্মাণের হিড়িক। নদী চর দখলকারীরা প্রথমে ছোট ছোট বাঁধ দিয়ে ঘের নির্মাণ করে। নদীর চরে থাকা প্রচুর বাইন গাছ কেটে উজাড় করে নির্মাণ করা হচ্ছে এসব চিংড়ী ঘের। প্যারাবনটি মাতারবাড়ী বন বিট অফিসের মাত্র ২’শ গজের মধ্যে থাকলেও নজরদারী নেই বন কর্মকর্তার। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বিট কর্মকর্তারা নদী চর দখলকারীর কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে এসব দেখেও যেন না দেখার ভান করেন। উপকূলীয় বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই দখল করেছে নদীর চর আর নির্বিচারে কাটা হচ্ছে প্যারাবন। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা এবং উজানটিয়া ও মাতারবাড়ী বিট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কোহেলিয়া নদীর চর দখল করে এবং প্যারাবন নিধন করে নির্মাণ করা হচ্ছে চিংড়ী ঘের। ভুমিদস্যুরা প্যারাবন কেটে সেখানে তারা ছোট টংঘর তৈরি করে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে পাহারা দেয় বলেও জানান স্থানীয়রা। কোহেলিয়া নদীর চর দখলকারী মাতারবাড়ী খন্দারবিল পুর্ব পাড়ার আব্বাছ উদ্দিনের নেতৃত্বে স্থানীয় কামাল, আজিজ ও ইকবাল সহ মাতারবাড়ীর ৭/৮ জনের একটি ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট কোহেলিয়া নদীর প্রায় দুই শত একর প্যারাবন দখল করে চিংড়ী ঘের তৈরি করেছে। অভিযুক্ত ভূমিদস্যু আব্বাছ উদ্দিন নদীর চর দখলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তিন বছর আগে উপকূলীয় বন বিভাগ কর্তৃক সৃজিত বাইন গাছ পাহারা দেওয়ার জন্য দখল করে রেখেছে এ বিশাল প্যারাবনটি। চর দখলের বিষয়ে মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, নদীর চর কারও দখলের সুযোগ নাই। স্থানীয় বিট কর্মকর্তাকে উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্যারাবন নিধন ও নদীর চর দখলকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।