আসকারদিঘী-বলুয়ারদিঘীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হবে: ডিসি

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো: আগুন নেভাতে পানির সংকট কাটাতে চট্টগ্রাম নগরীতে বেদখল হওয়া পুকুরগুলো উদ্ধার করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।

সোমবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ‘অগ্নি নিরাপত্তা জোরদার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি’ নিয়ে দোকান মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা জানান।

সম্প্রতি সীতাকুণ্ডে তুলার গুদামে আগুন নেভাতে পানির সংকটের উদাহরণ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরে যে পুকুরগুলো রয়েছে সেগুলো আমরা উদ্ধার করতে চাই। পুকুরগুলোর চারদিকে আমরা ওয়াকওয়ে বানাতে চাই। আসকারদিঘী, ঢেবারপাড়, বলুয়ার দিঘীসহ সব পুকুরের চারপাশে যে অবৈধ দখলদার আছে, তাদের উচ্ছেদ করা হবে।’

‘সিডিএ, সিটি করপোরেশন ও রেলওয়েকে চিঠি দেব, যাতে তারা এই অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করে আমাদের দেয়। পুকুরগুলো সব বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া আমরা সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেব যাতে ফুটপাতগুলো মুক্ত রাখা হয়। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার জন্য। প্রয়োজনে আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমরা প্রস্তুত আছি।’

ঢাকার বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার, তামাকমুণ্ডি লেইন, জহুর হকার্স মার্কেট ও টেরিবাজার এগুলো অনেক ঘনবসতিপূর্ণ। এক জহুর হকার্সে মার্কেটে ৮০০’র বেশি দোকান আছে। আমি বলতে পারি, কোনো দোকানেই কিন্তু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই।’

অগ্নিঝুঁকি কমাতে ব্যবসায়ীদের নিজস্ব পরিকল্পনা রাখার আহবান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বঙ্গবাজারে যে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে কিন্তু অনেক ব্যবসায়ী সর্বশান্ত হয়ে পথে বসে গিয়েছেন। চট্টগ্রামেও ঘনবসতির মধ্যে যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছে সেখানে আমাদের মোবাইল কোর্টগুলো রিয়াজউদ্দিনবাজারসহ আরও বিভিন্ন মার্কেটে গিয়েছে। সেখানে আমাদের টিম যে পরিস্থিতি দেখেছে ওইখানে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কোথাও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই। যেগুলো আছে সেগুলোও মেয়াদ শেষ। আমরা যারা যে অবস্থানে আছি আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। প্রত্যেকের নিজস্ব একটি প্ল্যান থাকতে হবে।’

দুই-তিন হাজার টাকার জন্য অগ্নিনিরাপত্তাকে প্রাধান্য না দেয়া বোকামি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি মার্কেটে একটি এসেম্বলি পয়েন্ট থাকতে হবে। ভুমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ড হলে যাতে সবাই এসে সেখানে দাঁড়াতে পারে। পরীর পাহাড় ও জহুর হকার্সের পেছনে একটি পাহাড় আছে, যেটা টেলিকম কোম্পানি বিটিসিএলের। এখানে কোথাও ওয়াটার রিজার্ভার তৈরি করা যায় কি না, বণিক সমিতি আর্থিক বিষয়টি দেখবে। আমরা জায়গাটার বিষয়ে দেখবো।’

জেলা প্রশাসন থেকে তিন মাস আগেও অগ্নি নিরাপত্তা জোরদার করতে অভিযান চালালেও তেমন পরিবর্তন আসেনি, এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের সামনে কী ব্যবস্থা থাকবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর নয়টি ফায়ার কোর্ট করা হয়েছে, বিশটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে ৩৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে ও একজনকে এক বছর জেলও দেওয়া হয়েছে। তারপরও অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমাদের পরবর্তী মোবাইল কোর্ট যে কোনোসময় শুরু হতে পারে।’

‘এসময় যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে আগুনের প্রতিকার ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স। যেখানে অগ্নিঝুঁকি রয়েছে সেটা রোধ না করেন, তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

এসময় চট্টগ্রাম ফায়ার ব্রিগেডের সহকারী পরিচালক আব্দুল মালেক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাকিব হাসানসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা ছিলেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.