পটিয়া প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম চট্টগ্রামের পটিয়ায় ঈদকে ঘিরে জমে উঠেছে মার্কেটগুলো। ছোট বড় সকলের জন্য সব ধরনের পোশাকের জন্য পটিয়ার মার্কেটের সুনাম পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রাম জুড়ে। এরমধ্যে গত কয়েক বছরে গড়ে উঠেছে কয়েকটি ‘ওয়ানস্টপ শপিংমল’। যেখানে সব বয়সী ও শ্রেমী পেশার মানুষের যাবতীয় পোশাক মিলছে এক ছাদের নিচে। রমজানের শুরু থেকে পটিয়ার মার্কেটগুলোতে বেঁচা-কেনার ব্যস্ততা বেড়েছে। এখানকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজান শুরুর পর সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পটিয়ায় ক্রেতাদের ভিড় রয়েছে। এ কারণে ১৫ রোজার পর থেকে পটিয়ার প্রায় দোকান রাতে বন্ধ করা হচ্ছে না। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে,পটিয়ার ছবুর রোড,স্টেশন রোড,ক্লাব রোড ও আদালত রোডের মার্কেটের সবকটি দোকানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। ক্রেতার চাপে বিক্রয়কর্মীদের যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। তবে বর্তমানে থান কাপড়ের দোকানে ক্রেতা কম হলেও ওয়ানস্টপ শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় রয়েছে। এবার বিক্রি ভালো হওয়ায় স্বস্তিতে আছেন পটিয়ার ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী নুরুল আলম জানান, পটিয়ায় গত এক দশকে প্রায় অর্ধশতাধিক শপিংমল গড়ে উঠেছে। যেগুলোতে মিলছে নারী-শিশু, বয়স্কসহ সব বয়সীদের প্রয়োজনীয় পোশাক। পটিয়ার ঈদের কেনাকাটার ভিড়ে নাজমা আকতার নামে এক ক্রেতা জানান, বিভিন্ন ধরনের পোশাকের জন্য মফস্বলের মার্কেটের মধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামে পটিয়ার একটি সুনাম আছে। এখানে অন্যান্য উপজেলার মার্কেটের তুলনায় কিছুটা সাশ্রয়ী দামে কাপড় পাওয়া যায়। দোকানভেদে নানা ধরনের থান কাপড় প্রতি গজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা থেকে ২০০ টাকায়। ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০০ টাকা বা তার চেয়েও বেশি দামের কাপড় রয়েছে । এছাড়া এখানে অনেকগুলো জোতার দোকান আছে । বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা ইউসুফ রেজা জানান, আমি গত কয়েক বছর ধরে পটিয়া থেকেই ঈদের কেনাকাটা করছি। এখানে এক ছাদের নিচে সব ধরনের কাপড় ছাড়াও সেন্ডেল,জোতা,পাঞ্জাবি, কসমেটিক, বোরকা,ক্রোকারিজ সহ প্রয়োজনীয় সব পাওয়া যায়। এ কারণে পটিয়া আসা হয়।’ ছবুর রোডের সর্ব উত্তরে ক্লাবের মোড়ে তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় রয়েছে বড় বাজার। এক দামে বিক্রি করা হচ্ছে এখানকার সব কাপড় চোপড় সহ সব পন্য। দামাদামির ঝামেলা না থাকায় স্বস্তিতে ক্রেতারা। বড় বাজারের বড় এই শোরুমে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী রবিউল ইসলাম জানান , ‘এখানে বিয়ের শাড়িসহ সব ধরনের শাড়ি, থান কাপড়, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, পাঞ্জাবি, লুঙ্গিসহ সব বয়সীদের কাপড় একদামে বিক্রি করা হচ্ছে।’ তৈয়বিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ী আইয়ুব খান জানান, পটিয়া অর্ধশত বছরের ঐতিহ্যবাহী মার্কেট। দক্ষিণ চট্টগ্রাম অঞ্চলের ধনী গরীব সকল শ্রেনী পেশার মানুষের জন্য পটিয়ার মার্কেট বিখ্যাত। বিভিন্ন উপজেলা থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরাও এখান থেকে কাপড় কিনে নিয়ে যান বিক্রির জন্য। পটিয়ায় প্রায় তিন শত ছোট-বড় দোকান রয়েছে। আরেক ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দীন জানান, পটিয়ায় ছোট-বড় তিন শতের মতো দোকান রয়েছে। এর মধ্যে দৈনিক ৫ লাখের বেশি বিক্রি হয় এমন দোকানও এখানে রয়েছে। আবার কিছু কিছু দোকানে দৈনিক ৫০ হাজার টাকা থেকে লাখ টাকাও বিক্রি হয়। শুরু থেকে থান কাপড়ের দোকানে ভিড় থাকলেও ১৫ রমজানের পর রেডি কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। এখানে ভোর আড়াইটা-তিনটা পর্যন্ত ক্রেতা থাকে। যার কারণে কিছু দোকান আছে রোজা শুরুর পর থেকে বন্ধ হয় না।