সাতকানিয়ায় আড়াই কোটি টাকার বালি অর্ধ কোটি টাকায় নিলামে বিক্রি!
দেয়া হয়নি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি, বোর্ডে নোটিশ টাঙ্গিয়ে দায় সার
সৈয়দ আককাস উদদীন
**সরকার রাজস্ব হারালো প্রায় দুই কোটি টাকা
***অভিযানে ধরা হলো ৫০ লক্ষ ঘণফুট
***নিলাম হলো ২৫ লক্ষ ঘণফুট,বাকি বালি গেল কই?
***ইউএনও বললেন, বৃষ্টির কারনে বালু চলে গেছে
***পুরো প্রক্রিয়াটিতেই বালু খেকোরা লাভবান হয়েছে : ডা আ ম ম মিনহাজুর রহমান
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সরকারী আড়াই কোটি টাকার বালি মাত্র অর্ধ কোটি টাকায় নিলামে বিক্রয় করা হয়েছে। কোন ধরনের পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচার না করে শুধু মাত্র অফিসের বোর্ডে নোটিশ টাঙ্গিয়ে অনেকটা চুপিসারে নিলাম কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ায় সরকার অন্তত ২ কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হলো।
বিকালে সহকারী কমিশনার (ভ‚মি)র কার্যলয়ে এই নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ৫১ লক্ষ দশ হাজার টাকা দিয়ে মেসার্স হাবিবা বিল্ডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ দরদাতা উল্লেখ করে তাকে এই বালু নিলাম দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সহকারী কমিশনার (ভুমি) আরাফাত সিদ্দিকী।
সূত্রে প্রকাশ, গত ১৪ মার্চ (মঙ্গলবার) বিকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট প্রতীক দত্ত সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চরতী ইউনিয়নের ব্রাক্ষণডেঙ্গা এলাকায় সাঙ্গু নদীর পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় উত্তেলিত বালু অবৈধ ভাবে বিক্রির সময় সৈকত দাশ নামের এক ব্যক্তিকে হাতে-নাতে আটক করে। জব্দ করা হয় ৫০ লক্ষ ঘনফুট বালু। একই এসময় বালু বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি এস্কেবেটরও জব্দ করা হয়। এসময় ধৃত ব্যক্তি সৈকত দাশ দীর্ঘদিন যাবত এলাকার প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির যোগসাজশে সে চুরি করে বালু বিক্রির কথা স্বীকার করলে তাকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা ও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়।
পরে বালি ও স্কেভেটর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ চৌধুরীর জিম্মায় দেয়া হয়।
সেই বালু নিলামে বিক্রির জন্য বালি উপজেলা বালি নিলাম কমিটির আহবায়ক ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) আরাফাত সিদ্দিকী নিলামের জন্য যে কোন ট্রেড লাইসেন্সধারী ব্যক্তি/ প্রকৃত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র আহবান করেন।
আরো পড়ুন
এবিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদ কামাল বলেন, প্রথম বার পরিমাপ ভুল হতে পারে, ধরলাম ২য় বারও ভুল হলো। কিন্তু ৩য় বারেতো ভুল হওয়ার কথা না। আপনি পুরো বিষয়টি নিয়ে কথা বললে বিস্তারিত জানতে পারবেন। যোগাযোগ করা হলে সাতকানিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা-তোজ জোহরা বলেন, আমরা যেটি পেয়েছি সেই অনুযায়ী নিলাম করেছি। কি দিয়েছে, কি পেয়েছি, কি পাইনি? সেটি নিয়ে একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তা রির্পোটে আসবে।
স্বাচিপ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটিতেই প্রভাবশালী বালিদস্যুই লাভবান হয়েছে। আর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত করা হলো। যারা যারা এই কর্মে জড়িত তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা করা জরুরী।
এদিকে চরতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ চৌধুরী বলেন- একটি মহলকে খুশি করার জন্য উপজেলা প্রশাসন বালুর পরিমাপ না করেই নিলাম দিয়েছে অথচ!আজও যদি ওই বালু পরিমাপ করা হয় তাহলে অন্তত ৪০লক্ষ ঘনফুট বালু থাকবে অথবা বর্তমানে নিলাম দেয়া থেকে পরিমাপে বেশী হবে সেটা আমার বিশ্বাস,আর যে এস্কেভেটরের কথা বলা হয়েছে সেটার জব্দ তালিকায় আমার সাক্ষর আছে যেমন সত্য ওদিন ভ্রাম্যমান অভিযানের সময় আমাকে কর্তৃপক্ষ এস্কেভেটরটি বুঝিয়ে দেয়নি সেটাও সত্য। তাই আদৌ এস্কেভেটর ছিল কিনা সেটার বিষয়ে আমার বোধগম্য নয়।