কেরানীহাট-বান্দরবান জাতীয় মহাসড়ক বন্যার পানিতে সড়কের ক্ষতি, এক মাসেও হয়নি মেরামত

 

নিজস্ব প্রতিবেদক 

গত মাসের শুরুতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে সাতকানিয়াবাসী। ব্যাপক ক্ষতি হয় জান-মালের। এখনো সেই ক্ষতচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছে তারা। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটাই ছিল যে অনেকে তা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বিশেষ করে বন্যায় বিপর্যস্ত কেরানীহাট–বান্দরবান মহাসড়ক। ২৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ মহাসড়কটি এখনো বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে আছে। একমাস পার হলেও সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে জনসাধারণকে।

নির্মাণের আট মাস না পেরুতেই পর্যটন জেলা বান্দরবানে যাতায়াতের দৃষ্টিনন্দন এ মহাসড়কটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন চলাচলকারীরা।

সড়ক বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৮ সালের অক্টোবরে কেরানীহাট–বান্দরবান জাতীয় মহাসড়কটি যথাযথ মান, প্রশস্ততা ও উচ্চতায় উন্নীতকরণ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০১৯ সালে মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। দীর্ঘ ২৩ কিলোমিটার সড়কটি প্রশস্তকরণ, বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়কের স্থানগুলো উঁচুকরণ, ২১টি ব্রিজ, ১৫টি কালভার্ট, ২১ কিলোমিটার ড্রেনেজ নিষ্কাশন অবকাঠামোসহ নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ২৬৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক ভয়াবহ ওই বন্যায় ভেঙে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে কেরানীহাট–বান্দরবান জাতীয় মহাসড়কটি। সড়কের একপাশ ভেঙে যান চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কেরানীহাট–বান্দরবান সড়কের সত্যপীরের মাজার গেট এলাকায় সড়কের বিশাল অংশ ধসে পড়ে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বেড়েছে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঝুঁকিও। সড়ক বিভাগ ভেঙে যাওয়া অংশে লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়ে দায় সেরেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন ও আব্দুর রশিদ বলেন, বন্যার ক্ষত এখনো সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাসছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে সংস্কারকাজ না হওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগ বেড়েছে।

তারা বলেন, সড়কটি তাড়াহুড়ো করে নির্মাণের কারণে প্রথম বন্যায় অধিকাংশ স্থানেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় সড়কের অংশ ধসে পড়ে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বেড়েছে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঝুঁকিও। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রাখায় ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, বৃষ্টিতে সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্মিত সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।  কেরানীহাট–বান্দরবান জাতীয় মহাসড়কটির উন্নয়ন কাজ করছে সেনাবাহিনী। তারা সড়কটি আগামী জুনে বুঝিয়ে দেবে। আমরা সড়কটির সংস্কার বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা কম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মেরামত করে দেবেন বলে জানিয়েছেন।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.