রহস্যজনক ভাবে পা বাঁধা অবস্থায় ফাঁসিতে এক যুবকের মৃত্যু, স্ত্রীর দাবী হত্যা

পুলিশের দাবী আত্মহত্যা

 

সাতকানিয়া প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পাহারাদারের পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার(২৬শে ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার কাঞ্চনা ফুলতলার উত্তর পার্শ্বে অবস্থিত গ্রামীন ব্যাংক সংলগ্ন একটি নতুন নির্মাণাধীন ভবনের টিনের ঘরে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম লিটন দাশ সে কাঞ্চনা ইউনিয়নের ধুপি পাড়ার বাসিন্দা সে ওই নির্মানাধীন ভবনের নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে নিয়োজিত ছিলো গত ২মাস ধরে।

জানা যায়, নির্মানাধীন ভবনের মালিক মো:আবু ছালেক তিনি দুবাই প্রবাসী তার বাড়িও নিহত লিটন দাশের বাড়ির পাশে, তবে সে ওখান থেকে ফুলতলার উত্তর পাশে টার্ফ খেলার মাঠের সাথে লাগোয়া একটি জমিতে নতুন ভবন তৈরী করার কাজ শুরু করলে মালামাল পাহারা দেয়ার জন্য নিয়োগ দেন দরিদ্র প্রতিবেশী লিটন দাশকে।

সেই সুবাদে লিটন দাশ ওখানে একটি টিনের ঘর নির্মান করে পাহারদারের কাজ করে আসছিলো।

কিন্তু হুট করে ২৫শে ডিসেম্বর সোমবার রাতে খেয়েদেয়ে রুমে প্রবেশ করে, মঙ্গলবার সকাল বেলায় নির্মানাধীন ভবনে কাজের লোক আসার পরেও রুম বন্ধ কেন বুঝতে পারলে- টিনের ফাঁকে দেখা যায় রশিতে  ঝুলন্ত লাশ লিটনের।

পরে তারা (কাজের লোক)আশেপাশে খবর দিলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।

এক পর্যায়ে সাতকানিয়া থানার ওসি( তদন্ত) আতাউল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজায় লাথি মারলে ছিটকিনি ভেঙ্গে লিটন দাশের মরদেহ উদ্ধার করেন বলে জানান ওসি( তদন্ত) আতাউল ইসলাম।

 

ওসি (তদন্ত) আতাউল ইসলাম আরো বলেন,যেহেতু বাহির থেকে দরজার ছিটকিনি লাগানো ছিলো এটা অবশ্যই আত্মহত্যা তার পরেও ডাক্তারী রিপোর্টে ক্লিয়ার হওয়া যাবে।

লাশ পোস্ট মর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এদিকে সাতকানিয়া থানার এসআই ছালামত উল্লাহ বলেন,এখনো হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা বুঝা মুশকিল।

এদিকে সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে নিহতের স্ত্রী বাবলি দাশ বলেন, আমার স্বামীর বেঁচে থাকার খুব ইচ্ছে, কারো সাথে কোন সমস্যা নেই।

আমার স্বামীকে হত্যা করা ছাড়া অন্য কোন কারণ নেই সে আত্বহত্যা করার মতো।

এবং একাধিক বাসিন্দারাও জানিয়েছেন লিটন দাশ খুবই ভালো ছেলে তার কোন শত্রু নেই এবং আত্মহত্যা করার মতো কোন পরিবেশ তার ছিলোনা, তাকেই হত্যায় করা হয়েছে।

স্থানীয়রা আরো জানান নিহতের পা যেহেতু বাধাঁ এটা আত্মহত্যা নয় সেটা ধরে নেয়া হচ্ছে।

এদিকে বাড়িওয়ালা আবু ছালেকের বউকে খোঁজে পাওয়া না যাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

নিহত লিটন দাশের এক ছেলে এবং এক মেয়ে আছে, ছেলেটি দারিদ্রতার কারণে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।

আর মেয়েটি বর্তমানে অষ্টম শ্রেণীতে পড়াশোনা করেন,গেল বন্যায় তার বাড়িঘর ভেসে গেলে সে অনেক কষ্ট করে নতুন করে টিনেরচালা ঘরও নির্মান করেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.