সৈয়দ আককাস উদদীন
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আল-কোরআন তাহফিজুল মডেল মাদ্রাসা থেকে আরছা আক্তার নামে মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) রাতে উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকার ওই মাদ্রাসার টয়লেট থেকে ঝুলন্তবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেন।
নিহত আরছা আক্তার উপজেলার চরতী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরতীর আলীচানপাড়ার জিয়াউল হোসেনের মেয়ে এবং আল কোরআন তাহফিজুল মডেল মাদ্রাসার মহিলা শাখার হেফজ বিভাগের ছাত্রী।
জানা গেছে, ঘটনার দিন পাশের এক চাচির বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সন্ধ্যায় মাদ্রাসায় ফিরে। পরে রাত আনুমানিক ১০টায় বাথরুমে প্রবেশ করলে দীর্ঘক্ষণ পরও বাইরে না আসায় মাদ্রাসার ছাত্র শাখা থেকে শিক্ষকরা এসে বাথরুমের দরজা ভেঙে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। পরে তাকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মাদ্রাসার শিক্ষক রাকিব জানান, মেয়েটি নতুন ভর্তি হয়েছে। সারাদিন চাচার বাড়িতে বেড়াতে গেছিল সেখান থেকে সন্ধ্যায় ফিরে। রাতে বাথরুমে ঢুকে বের না হলে হুজুরদের জানানো হয়। তখন হুজুররা গিয়ে দরজা ভেঙে মেয়েটির গামচা পেঁচানো ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে সাথে সাথে সাতকানিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. এ আর রায়হান সিদ্দিকী জানান, মেয়েটির গলায় আর কপালে দাগ ছিল। মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্ত শেষে জানা যাবে।
সাতকানিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউল হক চৌধুরী বলেন, মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যুর সংবাদ হাসপাতাল থেকে পেলে আমরা হাসপাতাল এবং ঘটনাস্থলে যায়। বিষয়টি আমাদের কাছে যথেষ্ট সন্দেহজনক মনে হওয়ায় নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি।
মেয়েটা ছোট এমন কী ঘটছে সে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিলো সেটা?
তবে দ্রুত সব বেরিয়ে আসবে।
এদিকে সাতকানিয়া হাসপাতালের এক বিশ্বস্ত সূত্রে আরো জানা গেছে মেয়েটি মৃত্যুর আগে ভার্জিন ছিলেননা,তার প্রতি যৌনাচারের একটা বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে তবে মৃত্যুরদিন যৌনাচারের শিকার হননি বলে নিশ্চিত করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন সাতকানিয়া।
এদিকে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গেলে কর্তৃপক্ষ থেকে মাদ্রাসার কোন অনুমোদন আছে বলে কেউ নিশ্চিত করেননি।
এমনকী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কার্যক্রম চালানোর জন্য তারা বৈধ কোন ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করেননি।
সাতকানিয়ায় প্রায় আবাসিক ভবনে এখন বিভিন্ন বাহারি নামে গড়ে ওঠেছে অননুমোদিত মাদ্রাসা,যেগুলোর বিষয়ে যথাযথ কোন বৈধতা যাচাই-বাছাইয়ের গরজ দেখাননি উপজেলা প্রশাসন।