চট্টগ্রাম ১৫ :রিভিউ চেয়ে বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফার বিরুদ্ধে ওরা ৩ জনের জোট
মনোনয়ন পেয়েও নিজ এলাকায় আসতে পারেননি নাজমুল মোস্তফা আমিন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতকানিয়া
চট্টগ্রাম ১৫আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনকে মনোনয়ন দেয়ার পর থেকে সাতকানিয়া লোহাগাড়া আসনে বিএনপির তৃণমূলে চরম অসন্তোষ বিরাজমান।
সাতকানিয়া লোহাগাড়ার একাধিক জনগন এবং বিএনপির রাজনীতিতে যারা জড়িত তাদের সিংহভাগের অভিযোগ বিগত ১৭বছর চট্টগ্রাম ১৫ (সাতকানিয়া লোহাগাড়া) আসনে ধানের শীষের মান মর্যাদা রক্ষার্থে যারা মাঠে ময়দানে ছিলো- যাদের মাথায় অন্তত তিন যুগেরও বেশী সময় ধরে রাজনৈতিক মামলার হুলিয়া সেই তিনজন হলেন- চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক মুজিবুর রহমান,চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক মো:জামাল ও জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপক শেখ মুহাম্মদ মহিউদ্দিন।

জানা যায়, সাতকানিয়া লোহাগাড়ায় ধানের শীষের প্রতীকের বিজয়ের স্বার্থে এমন স্লোগান তুলে সদ্য মনোনয়ন প্রাপ্ত নাজমুল মোস্তফা আমিনের প্রার্থীতা বাতিল করে রাজপথে থাকা এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের মূর্তিমান আতংক হিসেবে পরিচিত এমন কাউকে মনোনীত করার জন্য গতকাল ১০ই ডিসেম্বর (বুধবার)চট্টগ্রাম নগরীর একটি রেষ্টুরেন্টে-
তারা(জামাল,মুজিব,মহিউদ্দিন) বৈঠক করেন বলে বিশেষ সূত্র প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে চট্টগ্রাম( ১৫ আসন) সাতকানিয়া লোহাগাড়ায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ভাগিয়ে নিলেও তৃনমূলদের রোষানল এড়াতে নিজ এলাকায় আসতে পারেননি বিএনপি নেতা লোহাগাড়ার বাসিন্দা নাজমুল মোস্তফা আমিন।
আরো জানা যায়, তিনি এলাকায় তো আসেননি বরং তার দলীয় মনোনয়ন বাতিলও পরিবর্তনের দাবিতে স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে দফায় দফায় করে বিক্ষোভ করেছেন।
গত শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নের মিঠা দোকান এলাকায় গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা মনোনয়ন বাতিলে অবরোধ সৃষ্টি করেন।
এতে মহাসড়কের দু’পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে যাত্রী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে গিয়েছিল।
বিক্ষোভকারীরা স্লোগানে স্লোগানে তখন জানান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান এবং আরেক যুগ্ন আহবায়ক মো:জামাল উদদীন ও জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপক শেখ মুহাম্মদ মহিউদ্দিনের মতো এই জনপদের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পরীক্ষিত বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে পাশ কাটিয়ে অপরিচিত মুখ নাজমুল মোস্তফা আমিনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার বিরুদ্ধে তারা এই আন্দোলনে নেমেছেন।
এই আন্দোলন দলের বিরুদ্ধে নয়,বরং এই আসনের বাস্তবতার প্রেক্ষিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতেই এবং ধানের শীষের প্রতীককে বিজয়ী করার জন্যই এই আন্দোলন।
তারা তখন প্রতিবেদককে আরো বলেছেন,আমাদের বিএনপির হাইকমান্ডে ভুল বুঝিয়ে কিংবা ভুল তথ্য দিয়ে যাদের নামে অসংখ্য মামলা ও যারা জেল-জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছে তাদেরকে উহ্য রেখেই মনোনয়ন বোর্ড নাজমুল মোস্তফা আমিনকে মনোনয়ন প্রদান করেন যা এই অঞ্চলের বিএনপির অস্তিত্বের অন্তরায়।
তাই – অবরোধ চলাকালে তারা নাজমুল মোস্তফা আমিনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন বলে প্রতিবেদককে জানান।
মাঠে থাকা সাতকানিয়া উপজেলা যুবদল কর্মী দেলোয়ার হোসেন ও মো. আরিফ বলেন, “ চেয়ারম্যান মুজিব ভাই,জামাল ভাই,মহিউদীন ভাই দলের কঠিন সময়ে রাজপথে থেকেছেন। তাদেরকে উপেক্ষা করে অপরিচিত ব্যক্তিত্ব নাজমুল মোস্তফা আমিনকে মনোনয়ন দেওয়া অন্যায়। আমরা আশা করি হাই কমান্ড সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন।”
শুধু তাই নয়,এদিকে একই দাবীতে এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মনোনয়ন ঘোষণার দিনও সাতকানিয়া লোহাগাড়ার তৃণমূল বিএনপির ব্যানারে সাতকানিয়ার ঠাকুরদিঘীর পাড় এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন।
তখন অবশ্যই প্রায় আধঘণ্টা চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক বন্ধ ছিল। তবে কোনো যানবাহন বা পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।”
এদিকে মনোনয়ন বাতিলের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক জামাল হোসেন, যুগ্ন আহবায়ক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, ও অধ্যাপক শেখ মুহাম্মদ মহিউদ্দিনের একান্ত বৈঠকের সত্যতা প্রতিবেদককে স্বীকার করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক এক নেতা।
সাবেক ওই ছাত্রদলনেতা নাজমুল মোস্তফা আমিনের মনোনয়ন বাতিলের চট্টগ্রাম নগরীর আজকের জামাল,মুজিব, মহিউদদীনের ঐক্যমত বৈঠকে স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন বলেও প্রতিবেদককে জানান।
এবং তিনি জানান-জামায়াতের বি টীম হিসেবেই মূলত নাজমুল মোস্তফা আমিনের নির্বাচনে আসা।
প্রকৃত পক্ষে তিনি আমাদের তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এবং এই আসন বিএনপিকে উপহার দেয়ার জন্য নির্বাচন করছেননা।
তিনি মনোনয়ন পেয়েও বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভয়ে সাতকানিয়া লোহাগাড়ার আসনে আসছেনা।
আমি আশা করব, বাস্তবতার নিরীখে আমাদের বিএনপির কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড বিষয়টা পুনরায় বিবেচনা করবেন।
অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপির এক নেতা প্রতিবেদককে জানিয়েছেন -মনোনয়ন পরিবর্তন না হলে বিএনপির প্রার্থীর জিতে আসা অন্তত এই আসনটিতে অসম্ভব।
এবং নির্বাচনের আগেই দলীয় কোন্দলের কারণে রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট হবে।
তবে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ঠেকাতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির তিনজনের ঐক্যজোটকে অনেকেই মনে করছেন আগামী নির্বাচনের আগেই চট্টগ্রাম ১৫ (সাতকানিয়া লোহাগাড়া আসনের) মান অভিমান ক্ষোভের অবসান না হলে জামায়াতের প্রার্থীর জন্য বিষয়টি হবে খালি মাঠে গোল দেয়ার মতো আশীর্বাদ, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নাজমুলের প্রার্থীতা বাতিলের বৈঠকের কথা প্রসঙ্গে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আরেক নেতা মুজিব চেয়ারম্যান বলেন,সে(নাজমুল মোস্তফা আমিন) নমিনেশন পেলো কিন্তু তার জনপ্রিয়তা থাকলে এখনো এলাকায় আসেনি কেন?
এবং সে জামায়াতের বি টীম, জামায়াতকে জিতিয়ে দেয়ার জন্যই সে বিরোধী মতের সঙ্গে যোগসাজশে মনোনয়ন নিছে বলেও সরাসরি প্রতিবেদককে আলাপের এক পর্যায়ে ইঙ্গিত করেছেন।
এবং জামায়াতের এক নেতার সাথে গভীর সখ্যতা প্রমাণ করতে বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের বেশ কিছু ছবিও প্রতিবেদককে পাঠান।