রাতে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী বুইশ্যা অস্ত্রসহ র‍্যাবের হাতে ধরা, হাসপাতালে ভর্তি

চট্টগ্রাম প্রতিদিন ডেস্ক

চট্টগ্রাম নগরের অপরাধজগতের আলোচিত নাম, পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী শহিদুল ইসলাম বুইশ্যা। রোববার (২১ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে নগরের ব্যস্ত পাঁচলাইশ এলাকার ফিনলে স্কয়ার মার্কেটের সামনে অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৭। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা, পড়ে গিয়ে আহত হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে এই গ্রেপ্তার কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

র‍্যাব ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরের ২ নম্বর গেইট এলাকার ফিনলে স্কয়ার মার্কেটের সামনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মোটরসাইকেলে পালানোর চেষ্টা করলে পড়ে গিয়ে আহত হন বুইশ্যা। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযানে তার কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে প্রত্যক্ষদর্শী একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে তারা কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময়ের শব্দ শুনেছেন।

গ্রেপ্তার শহিদুল ইসলাম বুইশ্যা (৩৫) ভোলা জেলার দৌলতখান থানার ভাণ্ডারী বাড়ির মোহাম্মদ আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার পশ্চিম ষোলশহর এলাকার বদিউল আলম গলিতে বসবাস করেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে তার বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১৯টি মামলা রয়েছে। চাঁদাবাজি, জমি দখল ও ছিনতাইসহ নানা অভিযোগেও তার নাম রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও এলাকা ঘিরে বুইশ্যার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর আগেও ২০২২ সালে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেন। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আগের অভিযান

এর আগে গত ৯ অক্টোবর চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ এলাকায় যৌথ অভিযানে বুইশ্যা বাহিনীর তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি নগদ টাকা, ড্রোন, ওয়াকিটকি ও টাকা গণনার মেশিনও জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন বেলাল (২৮), হৃদয় বড়ুয়া (৩০) ও মো. আজাদ (২৩)। তবে ওই সময় মূল হোতা বুইশ্যা ও আইয়ুব আলীসহ মোট ২৪ জন সহযোগী পালিয়ে যায়। অভিযানে উদ্ধার করা হয় বিদেশি পিস্তল পাঁচটি, বিদেশি বন্দুক তিনটি, দেশীয় পাইপগান দুটি, শর্ট শুটার গান একটি এবং দেশীয় লম্বা বন্দুক দুটি।

আরও এক সহযোগী গ্রেপ্তার

গত ৬ ডিসেম্বর চান্দগাঁওয়ের বাড়ইপাড়ার জামাল কলোনিতে অভিযান চালিয়ে বুইশ্যা বাহিনীর সদস্য ইমন হোসেন ওরফে আবদুর রহমানকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই সময় তার কাছ থেকে একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। ইমন নাটোরের বরাইগ্রাম থানার জামাই দীঘার মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বুইশ্যা বাহিনীর হয়ে অস্ত্র বহন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তা এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তারের কাজে যুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে পাঁচটি মামলা রয়েছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, বুইশ্যার বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে এবং সর্বশেষ গ্রেপ্তারের ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.