ছয়টি উপজেলার অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন সিএনজি চালিত অটোরিকশা বৈধ হয় চাতরী চৌমুহনীর ‘টিআই অফিসে’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ: আনোয়ারা চাতরী চৌমুহনী স্টেশনের টিআই-

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম 

দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার কর্ণফুলীতে আনোয়ারার পিএবি মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা।

বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনদুপুরে নির্বিঘ্নে চলছে এসব যানবাহন। বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, বাড়ছে জনভোগান্তি।

যাত্রীদের অভিযোগ— ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। লোক দেখানো অভিযান, মাঝে মাঝে শো-অফ আর দীর্ঘ নীরবতার কারণে থামছে না এসব অবৈধ সিএনজির দাপট।

সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনাতেও এসব অটোরিকশার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চাতরী চৌমুহনী বাজার থেকে মইজ্জ্যারটেক পর্যন্ত মহাসড়কের পুরো পথজুড়ে টিআই আবুল কালাম আজাদকে ‘ম্যানেজ’ করেই  দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব অবৈধ সিএনজি।

সরেজমিনে দেখা যায়,  অধিকাংশ গাড়ির নেই নাম্বার প্লেট; চালকদের বড় একটি অংশের নেই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।

সড়কে নিয়ম-শৃঙ্খলার বালাই নেই— তারপরও নির্বিঘ্নে চলছে তাদের চলাচল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিএনজি চালক জানান, কিছু সমবায় সংগঠন মাসিক ‘টোকেন’ নামে ২৫০ টাকা আদায় করে।

তাদের দাবি— এই টোকেন থাকলে ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি আটক করে না। আর টোকেন না থাকলে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হয়; গাড়ি ছাড়াতে লাগতে পারে দুই-তিন দিন।

এক সিএনজি চালক বলেন,“জরিমানা দিয়ে গাড়ি ছাড়াতে অনেক ঝামেলা হয়। তাই ২৫০ টাকা দিয়ে টোকেন নিলেই সব ঠিক থাকে।”

এ বিষয়ে আনোয়ারা চাতরী চৌমুহনী ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “কাগজপত্রবিহীন গাড়ি পেলেই আমরা আটক করি ও মামলা দিই।” তবে সম্প্রতি কোনো গাড়ি আটক করা হয়েছে কি না— সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।তিনি তখন ফৌজদার হাট হাইওয়ে অফিসে মিটিং এ  আছেন বলে জানান।

এদিকে অভিযোগ ওঠেছে, তিনি তেমন মামলা দেয়না তবে মামলা দেয়ার ভয় দেখিয়ে তার দপ্তরে চলে বানিজ্য।

তিনি (টিআই কালাম)বলেন আমি এসেছি এক বছর হচ্ছে তবে কি সংখ্যক মামলা দিয়েছি তা আমার জানা নেই দেখে বলা লাগবে।

অপরদিকে চট্টগ্রাম নগরীর নতুন ব্রিজ থেকে বাঁশখালী রুটের মাঝখানে আনোয়ারা চাতরী চৌমুহনীর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদের সহযোগিতায় রেজিস্ট্রেশন বিহীন সিএনজির লাইনটি দীর্ঘদিন যাবত চলাচল করছে টোকেন বাণিজ্যের মাধ্যমে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন সূত্র।

জানা যায়- নতুন ব্রিজ এলাকায় ট্রাফিক পুলিশও  কথিত কিছু সাংবাদিকের নামে সিএনজি চলাচলের অভিযোগ উঠেছে। নামে বেনামে পত্রিকার স্টিকার সাঁটিয়ে চলছে টোকেন বাণিজ্য।

অনেকে আবার শ্রমিক সংগঠনের নামেও চালাচ্ছে সিএনজি। আর এসব সিএনজির অধিকাংশের নেই কোন বৈধ কাগজপত্র ও রেজিস্ট্রেশন। On test এর নামে বীর দর্পে দিনে এবং রাতে সমান তালে চলছে এসব রোড পারমিট বিহীন অবৈধ সিএনজি।

প্রশাসনের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাও এই সিএনজির টোকেন ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে মর্মে অভিযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম শহর থেকে দক্ষিণ জেলার অন্যতম প্রবেশ পথ শাহ আমানত ব্রিজ (নতুন ব্রিজ)। নতুন ব্রিজে যাত্রী এবং যানবাহনের সংখ্যা বেশি থাকায় এমনিতেই সড়কটিতে যানজট লেগেই থাকে।

সাতকানিয়ার পশ্চিম সাতকানিয়া এলাকা, কর্ণফুলী,আনোয়ারা, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, চকরিয়া বদরখালী, মহেশখালী, রোডে নিয়মিত যারা সিএনজিযোগে যাতায়াত করেন তারা তারা বললেন ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজির কারণে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন সিএনজির চালক।

অনেকে আবার যানজট নিরসনে সিএনজি যাতে না চলে সেটাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

এদিকে আরো জানা যায়, চট্টগ্রামুখি আনোয়ারা, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, চকরিয়া বদরখালী, মহেশখালী, রোডের সকল নম্বরবিহীন সিএনজি কিংবা লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভার ও ফিটিংসহ সবকিছু চাতরী চৌমুহনীতে চেকিং করেন টিআই আবুল কালাম আজাদ।

ফলে, এখানে অবৈধদের বৈধ করার কারিগর এই টিআই আবুল কালাম আজাদ, ফলে দৈনিক কামাচ্ছে লাখ টাকারও অধিক এমনটাই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এই সড়কে চলাচল করা নম্বরবিহীন এক সিএনজি চালক।

শুধু তাই নয় এই সড়কে গাছের বৈধ অবৈধ গাড়ী থেকেও একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নেয় বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, গত বছরের মে মাসে আনোয়ারায় প্রাইভেট কারের ধাক্কায় এক  টমটম চালক নিহত,ঘটনায় আহত হয়  ১ নারী,এবং একই সড়কে অটোরিকশার পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, যুবক নিহতের তথ্যও আছে এবং ১৫ই এপ্রিল একই স্টেশনের সড়কে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে এক যাত্রী নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছিলেন আরও একজন।

মূলত প্রতিবেদকে কাছে যা তথ্য আছে এই টিআই আবুল কালাম আজাদের আমলেই তার আনোয়ারা অংশে সড়ক দূর্ঘটনা বেশী হয়েছে।

কারণ তিনি তার (আবুল কালাম আজাদ) দায়িত্বের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন বলে স্টেশনের একাধিক লোকজন জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.