অবৈধ বাঁধ কাটা, মৌসুমী চুক্তি শেষ হওয়াতেই টনক নড়েছে উপজেলা প্রশাসনের

সাতকানিয়ায়- স্কেভেটর প্রতি নেয়া হতো দৈনিক ২৫হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের পশ্চিম পাশে নলুয়া ও কেঁওচিয়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী “বেরিবাঁধ” এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কৃত্রিম বাঁধ তৈরি করে রাতের আঁধারে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এসব মাটি স্থানীয় বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান, জরিমানা এবং মাটি বহনকারী ডাম্পার জব্দ ও নষ্ট করা হলেও থামানো যাচ্ছিল না এই অবৈধ কার্যক্রম। এতে পরিবেশ ও কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়ছিল।

অবশেষে শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে খোন্দকার মাহমুদুল হাসান এর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর একটি জোরালো অভিযান পরিচালিত হয়। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং সাতকানিয়া থানা পুলিশ অংশ নেয়। অভিযানে অবৈধভাবে নির্মিত কৃত্রিম বাঁধগুলো কেটে ফেলা হয়, ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয় এবং মাটি কাটার পথ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা’রা জানান,“প্রতিদিন রাত হলেই ডাম্পারের শব্দে এলাকা ভারী হয়ে যেত। কয়েকদিন অভিযান হলে বন্ধ থাকে, তারপর আবার শুরু হয়। এবার যেন স্থায়ী সমাধান হয়।
এভাবে মাটি কাটতে থাকলে আমাদের জমি ও পরিবেশ দুইটাই শেষ হয়ে যাবে। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই, তবে স্থায়ী নজরদারি দরকার।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান,“মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে এই অভিযান চলমান থাকবে। জনস্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রম বরদাস্ত করা হবে না।”

এ অভিযানের মাধ্যমে প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—অবৈধভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ লুটের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে স্থানীয়রা প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, মূলত মৌসুমি ভিত্তিক চুক্তি শেষ হওয়ায় প্রশাসন মাটি কাটার বিষয়ে তৎপরতা দেখাচ্ছে।

এদিকে সাতকানিয়ার এক সাংবাদিক তার ভেরিফাইড ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে জানিয়েছেন- এস্কেভেটর প্রতি ২৫হাজার টাকা নেয়া হতো এবং বিভিন্ন দপ্তরের জন্য আরো বেশী নেয়া হতো বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.