সাতকানিয়ায় স্কেভেটর বিকলের নিউজের পরের দিনই হয় সচল, ‘মানবিকতা’ বিক্রি চড়ামূল্যে
বিকল গাড়ীগুলো সচল করতে লাগে প্রশাসনের আধ্যাত্মিক ফুঁ
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে বিগত ৫মাসে চালানো হয়ছে ২শতাধিক অভিযান।
তবে প্রেস রিলিজ ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাতকানিয়ার এসিল্যান্ড কর্তৃক শুধু স্কেভেটর বিকলের জব্দের অভিযান করা হয়েছে ৩০টির মতো।
বিকল করাবস্থায় নট বল্টু ইস্ক্রুপ নষ্টের পাশাপাশি নিয়ে আসা হয়েছে মাটি কাটার স্কেভেটরের ব্যবহৃত ব্যাটারীগুলোও।
ফলে এই পর্যন্ত সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ৩০টি বিকল স্কেভেটর গাড়ীর ব্যাটারী থাকার কথা।
আইনমতে ওই ব্যাটারীগুলো জব্দ তালিকা করে কোর্টে প্রেরণ করার কথা।
তবে এই প্রতিবেদকের কাছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা এবং জব্দ করা ডাম্প ট্রাক ফেরত দেয়ার নথির সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলেও খাল বিলের মাঝে কিংবা পাহাড়ে বিকল করে ফেলে আসা এস্কেভেটরের ব্যাটারীর কোন তথ্য কিংবা প্রশাসন কর্তৃক বিকল করে দেয়ার পর নিয়ে আসা সংশ্লিষ্ট গাড়ীর ব্যাটারীর বর্তমান হালচালের কোন তথ্য আসেনি।
তবে প্রতিবেদক এস্কেভেটর বিকল করে দেয়ার ৩০টির মতো খবর প্রকাশ করলেও বিকল গাড়ীর ব্যাটারীর কি অবস্থা তার তথ্য প্রতিবেদক পায়নি।
কারণ এই স্কেভেটর শুধু মাত্র তখনি আইনী ভাবে বিকল করা হয়েছে মর্মে ধরে নেয়া হয়,যখন ব্যাটারী খুলে ফেলা হয়।
প্রতিবেদক অন্তত ৫টি স্কেভেটর গাড়ীর ড্রাইভারদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন, গাড়ীর ব্যাটারী খুলে নিয়ে আসার পর পুলিশ কিংবা উপজেলা প্রশাসন বিকল করা হয়েছে মর্মে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সংবাদ করালেও পরে যে ব্যাটারী দিয়ে সচল করা হয় তার নিউজ প্রকাশ্য আসেনা।
অভিযোগ ওঠেছে, সব বিকল স্কেভেটর গাড়ীই ২/৩দিন পর অভিনব কায়দায় সচল করা হয়েছে।
এদিকে সাতকানিয়া সচেতন মহলের দাবী সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান সকল সাংবাদিককে এস্কেভেটর গাড়ী বিকলের তথ্য দিলেও পরে যে সচল করে দেয় তার তথ্য দেননা কেন?
বিকল করে দেয়ার এস্কেভেটর যদি প্রশাসনের জব্দ করা ব্যাটারী দিয়েই পুনরায় সচল করা হয়, তাহলে এর পরে আবার ওই স্কেভেটর দিয়েই তো সাতকানিয়ায় মাটি কাটে।
তাহলে অভিযানের নামে দিনে বা রাতে চোর পুলিশ খেলা করার রহস্য কি?
বিকল করা স্কেভেটরের ব্যাটারী শুধু উপজেলা প্রশাসন আনছে তা নয়, বেশ কিছু সময়ে পুলিশও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছেন তবে তাদের আনা গাড়ীগুলোও ভ্রাম্যমাণ আদালতের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হলেও ব্যাটারী কিন্তু একবারের জন্যও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাঠঁগড়ায় ওঠেনি।
সুতরাং সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বেশী সংখ্যক এস্কেভেটরের ব্যাটারী গায়েব হলেও পুলিশের এস্কেভেটর বিকল করার তথ্যে অল্পকয়েকটার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট গরমিল লক্ষণীয়।
এদিকে সাতকানিয়া উপজেলায় কর্মরত এক কর্মচারীর কথার বরাতে জানা যায়, বিকল করা গাড়ীর মালিকরা নিউজের পর অফিসে এবং পুলিশের কাছে গিয়ে ধর্না দেয় ফলে বাজারমূল্যের চেয়ে কমদামে মানবিক বিবেচনায় ব্যাটারী গুলে আবার ফেরত দেয়া হয়।
এদিকে অভিযোগ ওঠেছে গাড়ীগুলো আনার পর ভ্রাম্যমাণ কিংবা জব্দ না দেখিয়ে কয়েকদিন চলে দেনদরবার।
বনিবনা হলেই ছেড়ে দেয়া হয়, নয়তো শেষ পর্যায়ে এসে কিছু কিছু আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়।
এদিকে অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত ৫মাসের মধ্যে উপজেলা প্রশাসন ডাম্প ট্রাক জব্দ করলেও একবারের জন্যও কিন্তু করেননি স্কেভেটর জব্দ। তবে সাতকানিয়া থানা পুলিশের তথ্যে এই পর্যন্ত ৩টা স্কেভেটর জব্দের তালিকা পাওয়া গেছে এবং ওই তিনটা জব্দ তালিকা আদালতে প্রেরণ করার তথ্যও এই প্রতিবেদকে কাছে আছে।
এখন জনমনে প্রশ্ন ওঠেছে,স্কেভেটর বিকলের সংজ্ঞা না দিয়েই অর্ধশতাধিক ব্যাটারী নিয়ে কি চলে যাবে বড় কর্তারা?