৫ বছরে ২৫কোটি ‘বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির’ প্রকল্প ভেস্তে যেতে পারে , বান্দরবান বন বিভাগের জলিলনামাতেই
তিনি বান্দরবান বন বিভাগের সদর রেঞ্জ সহযোগী কর্মকর্তা এইচ এম জলিল-
সৈয়দ আককাস উদদীন, চট্টগ্রাম থেকে
৫ বছরে ২৫কোটি বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির প্রকল্প ভেস্তে যাবে বান্দরবান বন বিভাগের জলিল ম্যাজিকে এমন আশংকা করছেন চট্টগ্রাম বনবিভাগের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
কারণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান ৫ বছরে ২৫কোটি চারা রোপন করে সবুজে শ্যামলা বাংলাদেশ গড়ে তোলতে।
কিন্তু চট্টগ্রাম অঞ্চল বনবিভাগের আওতাধীন বান্দরবান সদর রেঞ্জের সহযোগী কর্মকর্তা এইচএম জলিলদের মতো দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে এমন প্রকল্প বান্দরবান তথা পুরো চট্টগ্রাম অঞ্চলে কতটুকু বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে দেখা গেছে প্রশ্ন।
বান্দরবান বন বিভাগের সদর রেঞ্জে বিগত ২ বছর যাবত বিধি বর্হিভূতভাবে সহযোগী রেঞ্জ অফিসার হিসেবে দায়িত্বে আছেন ফরেস্টার এইচ.এম. জলিলুর রহমান। যদিও বান্দরবান বন বিভাগে প্রতি রেঞ্জে ফরেস্ট রেঞ্জার, ডেপুটি রেঞ্জার,
ফরেস্টার, বন প্রহরীদের ১ বছর করে পোস্টিং এর সময় নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু এইচ.এম. জলিলুর
রহমান ফরেস্টার নিয়মের তোয়াক্কা না করে তার আত্মীয় মন্ত্রনালয়ের এক সচিব দ্বারা তদবির করে মোটা টাকার বিনিময়ে নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ২ বছর যাবত সদর রেঞ্জের পোস্টিং চাকরী করছেন। তিনি সদর রেঞ্জে অবৈধভাবে কাঠ পাচারে সহযোগিতা করায় তাকে সাসপেন্ডও করা হয়। । তবুও তাকে দিয়ে কাঠের টি,পির গাড়ীতে লোডিং অফিসার হিসেবে রাখা হচ্ছে। অনুস্বন্ধানে জানা যায়, এইচ.এম.জলিলুর রহমান একজন দূনির্তিবাজ, এবং বন ধ্বংসকারী অফিসার। তাকে কক্সবাজার দক্ষিন বন বিভাগে পোস্টিং দেয়া হলে সেখানে গাছ পাচারের সাথে জড়িত থাকায় তাকে সাসপেন্ড করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি সচিব দিয়ে ফোন করে লামা বন বিভাগে পোস্টিং ভাগিয়ে নেন। লামা বন বিভাগেও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ পাচার, বনভূমি জবর দখলের সাথে জড়িত হলে তাকে অকালীন বদলী করে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগে পাঠানো হয়। এইচ.এম.জলিলুর রহমান উপকূলীয় বন বিভাগ, চট্টগ্রামেও গাছ পাচার, বন ভূমি জবরদখল, চিংড়ি ঘের, লবনের ঘের দখলের মত অপরাধে সম্পৃক্ততা প্রমানিত হওয়ায় দায়ে চাকুরী হতে সাসপেন্ড করা হয়। বান্দরবানে ঘুরে জানা যায়, এইচ.এম.জলিলুর রহমান, ফরেস্টার বর্তমানে সেকদু রেঞ্জে রেঞ্জ অফিসারের দায়িত্বে আছেন। রেঞ্জে থাকার সুব্যবস্থা থাকলেও তিনি রেঞ্জ কার্যালয়ে থাকেন না। । মাসে ১ বার রেঞ্জে যান। বান্দরবান সদরে বসে তিনি তার রেঞ্জের জোত পারমিটের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এমনকি শহরে বসে তিনি তার রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পাড়া বন হতে কাঠ পাচারের লাইন মেইনটেইন করেন। সাঙ্গু রিজার্ভ হতে অবৈধ কাঠ পাচারে তিনি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সহযোগিতা করছেন, তার রেঞ্জের সীমানার মধ্য দিয়ে, রেঞ্জ অফিসের সামনের রাস্তা দিয়েই দিনে রাতে অবৈধ কাঠের গাড়ী পারাপার হয়। অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, এইচ.এম.জলিলুর রহমান, ফরেস্টার গত ২ বছর থেকেই বান্দরবান সদর রেঞ্জের সহযোগী রেঞ্জ অফিসারের লোভনীয় পোস্টিং বাগিয়ে রেখেছেন।
টিপির প্রতি গাড়ী হতে উক্ত ফরেস্টার ৩ হাজার টাকা, টি.পির গাড়ীতে অবৈধ কাঠ পরিবহনের সুবিধা দিয়ে প্রতি গাড়ী হতে তিনি ৫ হাজার টাকা করে চাদা নেন। ফার্নিচার এর টি.পির জন্যও এইচ.এম.জলিলুর রহমান, ফরেস্টারকেও মাসোয়ারা দিতে হয়, অন্যথায় টি.পি পাওয়া সম্ভব হয় না। বন্যপ্রাণী পাচারের সাথেও এইচ. এম. জলিলুর রহমান, ফরেস্টার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তিনি গত ২ মাস আগে হরিনের মাংসসহ আসামী হাতেনাতে ধরলেও চক্রের মূল হোতাদের ছেড়ে দেন। এ নিয়ে পত্রিকায় সংবাদও প্রকাশ হয়। কিন্তু ফরেস্টার এইচ. এম. জলিলুর রহমান থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাহিরে।
অভিযোগের বিষয়ে বান্দরবান সদরে কর্মরত এইচ এম জলিল বলেন,ভাই আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুলো মিথ্যা কেব আনা হচ্ছে আমি তা জানিনা।
আমি সদর রেঞ্জে সহযোগী হিসেবে আছি আমি শুধু এখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত রেঞ্জারের নির্দেশ মতো কাজ করি।
এদিকে বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টা দেখতে হবে তবে তার ২বছর পূর্ন হলে তো ডিভিশন চেঞ্জ হয়ে যাওয়ার কথা।
তার মূল রেঞ্জে কাজ কম তাই আগের ডিএফও সাহেব সদরে সংযুক্ত করেছেন।
চলমান পর্ব-০১