দেওদীঘির পশ্চিম পার্শ্বে দীর্ঘ ১৯ বছর পর ফের ‘একই স্থানে ডাকাতি’
মাত্র ২দিন আগে দেওদীঘিতে মিলেছে অপরিচিত একটি লাশও-
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের দেওদীঘির পশ্চিম পার্শ্বে আমতল এলাকায় একটি দূর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ঘটনায় অন্তত ৫জন আহত হয় বলে জানা যায়।
ডাকাতির শিকার ৫জনের মধ্যে ২ যুবকরা হলেন এওচিয়ার দেওদীঘি স্টেশনের ব্যবসায়ী মো:সুমন ও হুমায়ুন,অন্যরাও একই এলাকার বাসিন্দা।
সুমন এওচিয়ার ৩নং ওয়ার্ডের আলীনগরের কুলাল পাড়ার সাহেব মিয়ার ছেলে।
সূত্রমতে জানা যায়, গতকাল রবিবার রাতে দেওদীঘি বাজারের ব্যবসা শেষ করে দোকান বন্ধ করে প্রতিদিনের ন্যায় নিজ ঘরে যাওয়ার সময় আমতলের পশ্চিমে এই ঘটনা ঘটে।
এদিকে এই ঘটনায় স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন রকম মন্তব্য করে যাচ্ছেন।
সাতকানিয়ার স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা লিখেন -গত ১৭বছর আগে দেওদীঘি এলাকায় ডাকাতি ও এওচিয়ায় খুনের রাজত্ব চললেও আওয়ামী লীগের আমলে অপরাধীরা কোনঠাসা ছিল বলেই অপরাধ সংঘটিত হয়নি। যা আজকে আমাদের আমলে হচ্ছে এটা খুবই লজ্জাজনক। তিনি আরো লিখেন, মাত্র ২দিন আগেই এই দেওদীঘিতেই পাওয়া যাচ্ছে লাশ।
এদিকে কুলাল পাড়ার টিপু লিখেন – ১৭বছর আগে আমরা জানতাম এই এলাকায় নিয়মিত ডাকাতি হতো তাই আমরা পাড়ায় পাড়ায় ডাকাত পাহারা দিতাম,মনে হচ্ছে সেই যুগে আবারো ফিরে যাচ্ছি।
টিপু আরো বলেন, আমার বন্ধু সুমন দোকান বন্ধ করে বাড়িতে আসার সময় আমতলের পশ্চিমে ডাকাতরা মারধর করে নগদ ১০লাখ টাকা ও ৩টা ফোন নিয়ে ফেলেন।
এদিকে একই এলাকার আলী আহমদ বলেন-আমাদের এই এলাকায় ২যুগের কাছাকাছি সময়ে কোন ডাকাতি হয়নি কিন্তু এটা আমাদের এলাকার জন্য নতুন ঘটনা এবং লজ্জাজনক অধ্যায়।
আমি প্রশাসনকে অনুরোধ জানাচ্ছি তদন্ত করে প্রকৃত ডাকাতদের আইনের আওতায় আনতে।
এদিকে আরেকটা ফেসবুকে বেশকয়েকজন লিখেন,গত ১৭বছরের আগের ডাকাতদলরা বিভিন্ন ছদ্মনামে ও বিভিন্ন সংগঠনের আড়ালে আবারো পুরাতন ডাকাতির পেশায় ফিরে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমতল থেকে শিশুতল পর্যন্ত এই দুইটা স্পটে ২০০০সাল থেকে ২০০৬সাল পর্যন্ত প্রতিদিন ডাকাতির ঘটনা ঘটতো।কিন্তু ২০০৭সাল থেকে ২০২৬সাল পর্যন্ত এই ডাকাতি আর সংঘটিত হয়নি তবে গতকালকের ঘটনায় মনে হচ্ছে আমরা অতীতে ফিরে গেলাম।
একাধিক স্থানীয়রা প্রতিবেদককে বলেন,পুরাতন ডাকাতরা কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলেন এবং কোন কোন ডাকাত এই দুইটা স্পটে নিয়মিত ডাকাতি করতেন সেটা তদন্ত করলে প্রশাসন দ্রুত পাবে।
তারা সবাই একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের মুখোশে মৌসুমী ভিত্তিক ডাকাতি সংঘটিত করে থাকেন।
এদিকে ডাকাতির কবলে পড়ে মারধরের শিকার হওয়া হুমায়ুন প্রতিবেদককে বলেন, ১০/১২জনের একটি দল আমাদের অটোরিকশা আটকে দিয়ে মারধর করে সব ছিনিয়ে নেয়।
কারো মুখে মাস্ক কারো মুখে কাপড় কারো মুখে বাইকের হেলমেট।
ডাকাত ৪/৫জনের দেহ জিম করার মতো বডি-বিল্ডার, আর ৪/৫জন খাটো মোটা।
আর ২/৩জন হাল্কা বয়স্ক বয়স ৪০-৫০হতে পারে।
খাটো সাইজের ডাকাতগুলোর বয়স ৩০-৩২ এরকম হতে পারে।
তিনি আরো বলেন রিকশা চালকসহ আমরা ৫জন ছিলাম সবাইকে মারধর করেছে। পরে আমরা আরেকটু পশ্চিমে মৌলভীর দোকানে গিয়ে ৯৯৯ এ কল করলে ডিউটিতে থাকা সাতকানিয়া থানার এসআই কাউসার সাহেব আসেন।
ঘটনাস্থলে তিনিসহ তার টীম প্রায় ২ঘন্টা অবস্থান করেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে সাতকানিয়া থানার এসআই কাউসারের ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করলেও তার নম্বর বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।পরবর্তীতে তার হোয়াটসঅ্যাপ ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও সংযোগ স্থাপন সম্ভব হয়নি।