মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে এবং বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সরকার নিরলসভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে ত্রাণ বিতরণের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। এজন্য কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ,আবাসন ও স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে সরকার।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে। শুধু খাদ্য সহায়তা দিয়ে দায়িত্ব শেষ হবে না। যেসব কৃষকের ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়েছে, খামারিদের গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির ক্ষতি হয়েছে, মৎস্যচাষিদের মাছের ঘের ভেসে গেছে এবং দরিদ্র মানুষের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এসব খাত পুনরুদ্ধারে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে বন্যার কারণে নানা রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পুরো চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় সাত লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এরই মধ্যে প্রশাসন ও সরকারের উদ্যোগে প্রায় এক লাখ মানুষের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও দাতব্য সংস্থার ত্রাণ কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানান এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ,চট্টগ্রাম -৯আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী, যুগ্ম আহবায়ক মুজিবুর রহমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য নাজমুল মোস্তফা আমিন, সদস্য এসএম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী,সদস্য সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী, সদস্য সালাহ উদ্দিন চৌধুরী সোহেল, সদস্য ফৌজুল কবির ফজলু, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ-বিন-আখন্দ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন এবং সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম ছিদ্দিকীসহ প্রশাসন, রাজনৈতিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।