বাঁশখালীতে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে পাহাড়ের মাটি বেচার অভিযোগ

রক্ষক যখন ভক্ষক-

 

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: 

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের পূর্ব-চাম্বল আদর্শগ্রাম সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি সময়ে প্রবল বর্ষণে বন্যায় পাহাড়ধসে সড়কে জমে থাকা মাটি সরকারি কাজে ব্যবহার না করে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় প্রায় ১২১ ট্রাক মাটি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা আবদু শুকুর।

রবিবার (৩ আগষ্ট) বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর দেওয়া অভিযোগে আবদু শুকুর উল্লেখ করেন, গত ৩ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত টানা ৯ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসের কারণে পূর্ব চাম্বল আদর্শগ্রাম আশ্রয় প্রকল্প থেকে ধুইল্যাঝিরি যাওয়ার সড়কের প্রায় ৩০০ ফুট অংশে বিপুল পরিমাণ মাটি ধসে পড়ে। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি ও পরিষদের ইউপি সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন ভাঙা সড়ক সংস্কারে ধসে পড়া মাটি ব্যবহারের মৌখিক অনুমতি নেওয়া হয়। তবে পরবর্তী কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় মাটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।

এ সুযোগে স্থানীয় চাম্বল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে আরও ২-৩ জন মিলে সিন্ডিকেট করে সরকারি কাজে ব্যবহার না করে ধসে পড়া মাটি বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, প্রায় ১২১ ট্রাক মাটি বিক্রি করে এর অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহে আসা সাংবাদিকদের কাছে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির তথ্য দেওয়ায় ইউপি সদস্য জসীম উদ্দিন তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন।
লিখিত অভিযোগে বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।

অভিযোগ পত্রে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফাতেমা বেগম , ফজলুল কাদের , আদর এবং স্থানীয় বাসিন্দা মোছাদ্দেক সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন।

স্থানীয় স্ক্যাভেটর ও ডাম্পার ট্রাক চালক মিজান, আবু ও মনির বলেন, ‘ইউপি সদস্য জসিম আমাদের ডেকে সড়কে ধসে পড়া মাটি অপসারণ করে ইউনিয়নের বিভিন্ন ভাঙা সড়কে ফেলতে বলেন। তিনি দাবি করেন, এ কাজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি রয়েছে তাঁর কাছে। তাঁর কথা মতো আমরা ট্রাক এবং স্কেভেটর ভাড়া নিজ খরচে মাটি অপসারণ করে
বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি জায়গায়
নিয়ে যায়। নিজের প্রয়োজনেও পরিবহন ভাড়া বাবদ সামান্য টাকা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় দিয়েছি। মাটি বাবদ কারো থেকে একটা টাকা ও কাউকে দিতে হবে না বলেছি এবং বিভিন্ন ভাঙা সড়কে দিয়েছি। তবে কয়েক দিন পর মেম্বার জসিম আমাকে চাম্বল বাজারে ডেকে নিয়ে সড়কে দেওয়া মাটিসহ মোট ১২১ গাড়ি মাটির জন্য প্রতি গাড়িতে ৪৫০ টাকা হিসেবে আমার কাছ থেকে টাকা দাবী করে ।’ হঠাৎ মাটির জন্য এই টাকা কেন দিতে হবে জিজ্ঞেস করা হলে তারা ৬০ হাজার টাকা (ইউএনও) অফিসে দিতে হবে বলে জোরপূর্বক আমাদের কাছ থেকে টাকা গুলো নিয়ে নেয়।

 

অভিযোগের বিষয়ে মুটোফোনে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জসীম উদ্দিন বলেন, ‘আমি পাহাড়ধসে রাস্তায়
পড়া মাটি গুলো অপসারণ করেছি। আমি মাটি বিক্রি করেছি কিনা সেটা দেখার বিষয় ইউএনও সাহেব এর। অভিযোগ কারীকে হুমকি কেন দিয়েছেন? এবিষয়ে তিনি বলেন আমার ওয়ার্ডে যা মন চাই তা আমি করব, আপনারা জিজ্ঞেসা করার কে বলে তিনি মোবাইল ফোন কেটে দেন।

 

এ বিষয়ে চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শহীদ উল্লাহ বলেন, পূর্ব চাম্বল আদর্শ গ্রামে পাহাড়ধসে পড়া ১২১ ট্রাক মাটি বিক্রির
বিষয়ে ইউএনও স্যারকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, মাটি বিক্রির বিষয়ে ‘লিখিত একটা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে।’

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.