শাহ আমানত সেতু পুলিশ বক্সে, চা খরচের নামে চলছে চাঁদাবাজি
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের আওতাধীন-
প্রয়াস ডেস্ক
দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের আওতাধীন শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) সংলগ্ন পুলিশ বক্সকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। অনুসন্ধান ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘চা খরচ’ নাম দিয়ে বিভিন্ন দূরপাল্লার পরিবহন, অবৈধ যানবাহন ও স্থানীয় রুটের গাড়ি থেকে নিয়মিতভাবে এই টাকা আদায় করা হচ্ছে। এই বিশাল অংকের লেনদেনের বিপরীতে দেওয়া হয় না কোনো সরকারি রসিদ, কিংবা জমা হয় না সরকারি
কোষাগারে। পুরো অর্থই ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, শাহ আমানত সেতু পুলিশ বক্সকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সুনির্দিষ্ট ও সুসংগঠিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা একে প্রকাশ্যে চা খরচ বলে আড়াঁলে পরিবহন চাঁদা বলে আখ্যা দেন।
সংশ্লিষ্টরা বিষয়টাকে চা খরচ’ বললেও বাস্তবে এটি একটি নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায় ব্যবস্থা। মাঠপর্যায়ে নির্দিষ্ট কয়েকজন সংগ্রাহক বা লাইনম্যানের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে পরবর্তীতে তা ট্রাফিক পুলিশ বক্সে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই অর্থ না দিলে মামলা, গাড়ি আটকে রাখা কিংবা অভিযানের ভয় দেখিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন ক্ষুব্ধ
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।
গোপন অনুসন্ধান ও সংগৃহীত তথ্যে উঠে এসেছে চাঁদা আদায়ের চাঞ্চল্যকর সব চিত্র। অবৈধভাবে চলাচলকারী
ঈগল পরিবহনের ছয়টি লাইন থেকে ফাহিম নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে পুলিশ বক্সে পৌঁছে দেওয়া হয়। চাঁদা সংগ্রহের বিষয়ে
মাঠপর্যায়ের সংগ্রাহকদের বক্তব্য ও স্বীকারোক্তি
গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা রয়েছে এবং এর ভিডিও ফুটেজ অনুসন্ধানকারী দলের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। একইভাবে কক্সবাজার- চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে চলাচলকারী প্রায় ৩০টি গাড়ীর চালকের সাথে কথা বলে এই সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তারা বলেছেন, একজন লাইনম্যান ও সংগ্রাহকের হাত ধরে পরিবহন চাঁদাগুলো সরাসরি শাহআমানত সেতুর পুলিশ বক্সের টিআই তুহিন আহমদের পকেটে যায়।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ বক্সের টিআই তুহিন আহমদের ফোনে কল দিলে তিনি কেটে দেন।
পরে সাংবাদিক পরিচয়ে টেক্সট দিয়ে পুনরায় কল দিলে তিনি বলেন-আমি অনেকদিন ধরে এখানে কাজ করছি এখানে থাকতে মন চাচ্ছেনা আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বলেছি এখান থেকে চলে যাব।আপনি একটা নিউজ করে দিন।
অপরদিকে -অভিযোগের বিষয়ে সিএমপি ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের ডিসি লিয়াকত আলী খান বলেন আপনাদের কাছে এরকম কোন তথ্য থাকলে নিয়ে আসুন আমি এধরণের কোন অপকর্ম সহ্য করবনা।