মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
কক্সবাজারের মহেশখালীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৮টি অস্ত্রসহ দুইজনকে আটক করেছে মহেশখালী থানা পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো মহেশখালী থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচারের উদ্দেশ্যে সংগ্রহ ও সরবরাহের প্রস্তুতি চলছিল।
অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্গম ও উপকূলীয় ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র পাচারের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ৮টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্রগুলোর উৎস, সরবরাহকারী, ক্রেতা এবং সম্ভাব্য পাচারপথ সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, মহেশখালীর উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকাকে ব্যবহার করে সাগর ও নৌপথে অস্ত্র দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। তবে অস্ত্রগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছে এবং কোথায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, অস্ত্রের ক্রেতা বা মূলহোতা কারা এবং এর পেছনে বড় কোনো অস্ত্র পাচারচক্র সক্রিয় আছে কি না—এসব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, মহেশখালীর দুর্গম চরাঞ্চল, উপকূল ও নৌপথকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নেয় অপরাধীচক্র। ফলে এবার ৮টি অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে এর নেপথ্যে থাকা পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস থেকে শুরু করে গন্তব্য পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে অস্ত্র কারবারের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। আটক দুইজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।