পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের পটিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে জায়গা দখল, মামলা, হামলা ও নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান পারভেজের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে পটিয়া উপজেলা সদরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হোসেন এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাজমুল হোসেন বলেন, তাদের একটি পৈতৃক জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান পারভেজ ও তার বাবা আবু বক্করের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬ সালে তারা ওই জায়গার দখল ও মালিকানা ফিরে পান বলে দাবি করেন তিনি।
নাজমুল হোসেনের অভিযোগ, জায়গাটি পাওয়ার পর থেকেই শ্রমিক লীগ নেতা পারভেজ তৎকালীন সংসদীয় আসনের সাবেক হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর প্রভাব ও ছত্রছায়া ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা, হামলা ও হয়রানি চালিয়ে আসছেন। একপর্যায়ে তাদের পুকুরে তিন দফা বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা আত্মগোপনে চলে গেলেও শ্রমিক লীগ নেতা পারভেজ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন এবং এখনো তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন।
নাজমুল হোসেন আরও অভিযোগ করেন, পারভেজের বাবা ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের উচ্চপর্যায়ে তদবির করে মুক্তিযোদ্ধার সনদ গ্রহণ করেন। পরে ওই কোটায় চাকরি নিয়ে বর্তমানে জজের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। বিভিন্ন সময় জজ অফিসের স্টাফ পরিচয় ব্যবহার করেও তাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নাজমুল।
তিনি দাবি করেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় পারভেজের নেতৃত্বে বিএনপির প্রার্থীর এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ভূয়া বিল করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন নাজমুল হোসেন। তার দাবি, বিষয়টি তদন্তে হয়রানিমূলকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টার সত্যতা পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
নাজমুল হোসেন বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের সঙ্গেও অতীতে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় তিনি আসামি ছিলেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরও আওয়ামী লীগের ‘দোসরদের’ কারণে তিনি ও তার পরিবার এখনো নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ পরিস্থিতিতে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং তার ও পরিবারের নিরাপত্তা ও হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত শ্রমিক লীগ নেতা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান পারভেজের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।