গতকাল রোববার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের বিবদমান দু’পক্ষের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের মতবিনিময় বৈঠকে এই দ্বন্দ্ব-কোন্দলের অবসান ঘটে। এ সময় সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে দলকে সুসংগঠিত, ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন স্থানীয় নেতারা। জাফর আলম এমপিসহ নেতারা আসন্ন চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের সব পর্যায়ের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী ও সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি, সালাহউদ্দিন আহমেদ সিআইপি, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাফর আলম এমপি, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু, সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে দল মনোনীত মেয়র প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকে জাফর আলম এমপি এবং পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকে জাহেদুল ইসলাম লিটুকে অব্যাহতি প্রদানের বিষয়ে বৈঠকে উভয় পক্ষের মতামত নেওয়া হয়। এরপর কেন্দ্রীয় নেতারা সিদ্ধান্ত জানান, কোনো রকম কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই দুই নেতার অব্যাহিত দলের গঠনতন্ত্র মেনে হয়নি। অব্যাহতি দেওয়ার এই আদেশ বাতিল করে জেলা, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ নেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ সময় চকরিয়ায় প্রকাশ্য সমাবেশে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদানের জন্য এমপি জাফর আলমের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। একই সঙ্গে তাকে চকরিয়া পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। জাফর আলম সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তার ব্যবহার ও বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ ছাড়াও কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমা চান। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুরোধে উভয়পক্ষ কোলাকুলি করেন।

বৈঠকে জাফর আলমকে আগামী ১৭ জুন চকরিয়া সদরে তার সভাপতিত্বে জনসমাবেশ করার নিদের্শনা দেওয়া হয়। ওই জনসমাবেশে কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফাকে প্রধান অতিথি এবং জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানসহ জেলা নেতাদের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় জাফর আলমকে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং চকরিয়া পৌর নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আলমগীর চৌধুরীকে মারধর করার অভিযোগে জাফরের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সভায় দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় চকরিয়া পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটুকেও। জেলা আওয়ামী লীগের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাফরের সমর্থক নেতাকর্মীরা চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করলে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অবশেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে এ পরিস্থিতির নিরসন হলো।