হেফাজতের তাণ্ডব: এমপি’র মামলার আবেদন খারিজ

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসার প্রতিবাদে হেফাজতের নেতাকর্মীদের সহিংস তাণ্ডবের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একজন সংসদ সদস্যের (এমপি) দাখিল করা একটি মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২২ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটির আরজি দাখিল করেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। সন্ধ্যায় বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান মামলাটি খারিজের আদেশ দেন।

বাদীপক্ষে মামলা দাখিলে অংশ নেওয়া সহকারী মহানগর পিপি রুবেল পাল সারাবাংলাকে বলেন, ‘আদালত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাটি গ্রহণ করে শুনানি করেছেন। পরে সেটি খারিজের আদেশ দিয়েছেন।’

বাদীপক্ষের আরেক আইনজীবী এ এইচ এম জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘সন্ধ্যায় বিচারক মামলাটি খারিজের আদেশ দিয়েছেন। খারিজের কারণ আমরা এখনো জানতে পারিনি। নথি পেলে জানা যাবে।’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উদযাপনকে ঘিরে গত ২৬ মার্চ থেকে টানা তিন দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক তাণ্ডব চালান হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। এসময় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। তাণ্ডবের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হন। এসব ঘটনায় মোট ৫৬টি মামলা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী মামলায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় মিলে ১৯ জনের নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও এক থেকে দেড়শ জনের নাম মামলার আরজিতে উল্লেখ করেছিলেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১ (২), ২৫ (২) ও ২৯ (২) ধারায় দাখিল করা আরজিকে মামলার এজাহার হিসেবে গণ্য করার জন্য স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আদেশ দিতে আবেদন করেন বাদী।

আরজিতে বলা হয়, গত ২৬ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে সরকারি-বেসরকারি ৫৭টি প্রতিষ্ঠানে হামলার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর দু’টি ম্যুরাল ভাঙচুর করে। পরে ৩১ মার্চ আসামিরা সংবাদ সম্মেলন করে এসব তাণ্ডবের জন্য উল্টো সংসদ সদস্য মোকতাদিরকে দায়ী করেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সাংসদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেন।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.