মুজিববর্ষে আশ্রয়হীনদের ঘর বানিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন বাজালিয়ার চেয়ারম্যান তাপস দত্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুজিবঘর নিয়ে সারাদেশে যেখানে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠছে সেখানে মুজিবঘর বানিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাপস দত্ত। একটি বাড়ি বানাতে বরাদ্দ হলো ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা, কিন্তু অবিশ্বাসযোগ্য হলেও মাঠের কথা বলছে ভিন্ন। বাস্তবে এসব ঘর তৈরিতে প্রয়োজন আরও টাকা। তবে শত বাধা বিপত্তি ঠেকিয়ে তিনি সরকারি তহবিলের সঙ্গে ব্যক্তিগত অর্থ যোগ করে করেছেন দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। বিভিন্ন জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর মুজিব শতবার্ষিকী উপলক্ষে উপহার এই ঘরের মান নিয়ে কিছুটা সোস্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন ওঠলেও প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি উজ্জল রাখার জন্য এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নটা বাস্তবায়ন করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগে নিরলস চেষ্টা চালিয়েছে সাতকানিয়া তথা পুরো বাংলাদেশে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সাতকানিয়া বাজালিয়ার চেয়ারম্যান তাপস দত্ত। বৃহস্পতিবার বিকালে বাজালিয়ায় মুজিব বর্ষের উপহার ঘরগুলি গিয়ে দেখা যায় দৃষ্টিনন্দন সববাড়ি। জানা যায়, সাতকানিয়ার বাজালিয়া ইউনিয়নে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ৫টি ঘর নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয় ইউপি চেয়ারম্যান তাপস দত্তকে। আর এই ঘর নির্মাণ বাবদ উপজেলা প্রশাসন থেকে তিনি নগদ ৮ লাখ টাকা গ্রহন করেন, কিন্তু বাস্তবে যে স্পটে ঘর নির্মাণ করবেন ওখানে শুধুই মাটি কাটতে খরচ হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। আর প্রতিটি ঘর নির্মাণ করতে তিনি নিজেই খরচ করেছেন আড়াই লক্ষ টাকার মতো। সবমিলিয়ে ৫টি ঘর নিমার্ণে বাজালিয়ার চেয়ারম্যান তাপস দত্ত খরচ করলেন ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকার মত। তার এমন মহত্বের কারণে ইউনিয়ন তথা পুরো জেলায় ফেসবুকে চলছে প্রশংসার জোয়ার। তার এমন মহৎ উদ্যোগের বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা-তুজ জোহরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদও জানান। এদিকে সাতকানিয়ার বাজালিয়ার এই ব্যয়বহুল ৫টি ঘর নির্মার্ণে মাটির কাজ করার শ্রমিকদের মাঝি মো. নাজিম বলেন, আসলে আমাদের চেয়ারম্যান বেশি ধনী লোক তাই ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন। অন্য চেয়ারম্যানদের তো তেমন টাকা পয়সা নেই তাই তারা খরচ করতে পারেনা। এদিকে নিজস্ব তহবিল ও যোগ করে ব্যয় বহুল মুজিব শতবর্ষের ঘর নির্মাণ করে আলোচনায় আসা চেয়ারম্যান তাপস বলেন, আসলে আমি নৌকার চেয়ারম্যান মানে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নৌকার নমিনেশনই চেয়ারম্যান। আমিও চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুজিব শতবর্ষের যে উপহার সেটা বাংলাদেশে স্থায়ী হোক এমন প্রত্যাশার একজন অংশীদার, আর সেই অংশীদার হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নটাকে টেকসই করার মানসিকতা থেকেই নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ করে ঘরগুলি নির্মাণ করি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.