সাতকানিয়ায়-স্কুলের সভাপতির পদ নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় সংঘর্ষ আহত-৫

নিজস্ব প্রতিবেদক 

 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কান্চনার বকশিরখীল এলাকায়- বকশিরখীল আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির পদকে কেন্দ্র করে দুই  প্রার্থীর মাঝে তুমুল সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

 

গেল মঙ্গলবার(৩০শে আগষ্ট) বকশিরখীলের আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই সংঘর্ষ বাঁধে।

 

সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৫জন আহতও ঘরবাড়ি ভাংচুরসহ লুঠপাটের অভিযোগ ওঠেছে।

জানাযায়-বকশিরখীলের জাগির সওদাগরের ছেলে হুমায়ুন এবং একই এলাকার মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে জায়েদ উভয়েই সভাপতি পদপ্রার্থী।

তাদের দুজনের এলাকায় রয়েছে শক্ত সমর্থক গোষ্ঠী।
হুমায়ুন স্থানীয় যুবলীগনেতা হলেও জায়েদ জামায়াতের সক্রিয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত।

 

হুমায়ুন স্থানীয় সাংসদের মনোনীত বিদ্যুৎসাহী সদস্য হিসেবে সভাপতির নির্বাচন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন- পক্ষান্তরে জামায়াত নেতা জায়েদ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য হিসেবেও প্রার্থীতা ঘোষনা করলেই উভয় গ্রুপ নিজ নিজ প্রার্থীকে জেতার জন্য মরিয়া হলেই বুধবার এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

এক পর্যায়ে সংঘর্ষটি বিদ্যালয়ের গন্ডির বাইরে গিয়ে পাড়ায় পাড়ায়ও ছড়িয়ে পড়ে, এতে যুবলীগনেতা হুমায়ুন মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হয়-

এবং হুমায়ুন গ্রুপের হাতে জামায়াতনেতা জায়েদের বড় ভাই রহিমও মারাত্বক আহত হন,সাথে জায়েদের পক্ষে আরো বেশ কয়েকজন মারধরের শিকার হন হুমায়ুন গ্রুপের হাতে।

 

স্থানীয় মহিলা মেম্বারের স্বামী জামাল নামেও এক যুবক এই সংঘর্ষে মারাত্মক আহত হতে দেখা যায় যার মাথায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ৭টি সেলাইও করা হয়,অন্যদিকে জায়েদের গ্রুপের হাতে যুবলীগনেতা হুমায়ুনের মাথায়ও ৪টি সেলাই করা হয়।

অপরদিকে জায়েদের বড় ভাই রহিমকে তার বাড়িতে গিয়ে হামলা করার পরে বাড়িঘরও লুঠ করার অভিযোগ ওঠেছে হুমায়ুন গ্রুপের বিরুদ্ধে এই ঘটনায় রহিমও মারাত্বক আহত হয়ে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়।

এদিকে হামলায় আহত হওয়া জায়েদের বড় ভাই রহিম বলেন-সভাপতির পদকে কেন্দ্র করে জায়েদকে খোঁজার জন্য হুমায়ুনও বহিরাগত লোকেরা আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুরও লুঠপাট চালায়, আমার ক্যাশটাকাসহ অনেক দামি জিনিষপত্র নিয়ে যায়।

 

অপর দিকে-স্থানীয় যুবলীগনেতা হুমায়ুন বলেন-রহিম যা বলেছে সব মিথ্যা,আমি শান্তিপূর্ন ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য চেষ্টা চালালে তারা জোরপূর্বক আমার থেকে একটি কাগজে সই নেয়ার চেষ্টা চালালেই এই সংঘর্ষ বাধেঁ।

নিয়মমত জামায়াতের ইউনিয়ন সেক্রেটারি জায়েদ ভূমিদাতা না হয়েও ভুমিদাতা থেকে একটি ভূয়া পাওয়ার নিয়ে সে অবৈধভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়।

অথচ!প্রকৃত ভূমিদাতা এখনো বেঁচে আছেন এবং তার পরিবারও আছেন,তাহলে এই জামায়াত ক্যাডার জায়েদ কীসের ভিত্তিতে নির্বাচন করবে?
তবুও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করার লক্ষে জায়েদ বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে শান্তপ্রকৃতির এলাকাকে অশান্ত করে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ভাই মাথায় আঘাত করেন একই সাথে স্থানীয় ইউপি সদস্য ছগিরের ছেলেও আমার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে আঘাত করেন।

আমি এই বিষয়ে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

অপরদিকে হুমায়ুনের হাতেও তার (হুমায়ুন)গ্রুপের হাতে বেদড়ক মারধরের শিকার দাবী করা জায়েদের বড়ভাই রহিমও অভিযোগ করে বলেন-হুমায়ুন বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে আমার ভাই(জায়েদ) যখন সভাপতি হয়ে যাচ্ছে সেখানেই গন্ডগোল লাগিয়ে দিয়েই,আমাকে মারছে প্রতিবেশী একজনের গাড়ি ভাংচুর করছেও আমার বাড়িঘর লুঠপাট চালিয়েছে।আর সেই কারণেই আমরা হুমায়ুনসহ তার গ্রুপের বিরুদ্ধে  ইতিমধ্যে সাতকানিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।

অপরদিকে রহিমের কথায় সমর্থন দিয়ে স্থানীয় কাশেম ড্রাইভার বলেন-আমি মসজিদে ছিলাম হুমায়ুন গ্রুপ রহিমকে মারতে মারতে আমার ওঠানে নিয়ে আসলে আমার ওঠানে রাখা ডাম্পার গাড়ীর গ্লাসটিও হুমায়ুনসহ তার গ্রুপ চুরমার করে।

কিন্তু স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য নবী মেম্বার বলেন-হুমায়ুন যথেষ্ট ভাল ছেলে জায়েদের গ্রুপ ছগিরের সাথে মিলে উল্টো আমাদের বাড়িঘরেও হামলা চালায়।

এদিকে স্থানীয় আরেক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন-জায়েদ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কাশেদুল ১৫০০০টাকা খেয়ে অবৈধভাবে তাকে দাতাসদস্য হওয়ার সুযো দেয়।

কমিটির সভাপতির পদ নিয়ে এই হামলা মামলার বিষয়ে সাতকানিয়া প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কাশেদুল ইসলাম বলেন-আমি এখন কেঁওচিয়া পরিষদে বসা আছি অফিসিয়াল কাজে,এরকম হতাহতের খবর এখনো শুনিনি। হতাহতের বিষয়ে ভোট স্থগিতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন-

পরিচালনা পর্ষদের ভোট স্থগিতের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি,সিদ্ধান্ত দিবেন ইউএনও স্যার।

পরে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরাকে কল করা হলে তিনি জেলা প্রশাসনের মিটিং এ থাকায় কথাবলা সম্ভব হয়নি।

সংঘর্ষের বিষয়ে থানায় কোন পক্ষ মামলা দায়ের করলো কীনা জানতে চাইলে সাতকানিয়া পুলিশের ওসি তদন্ত শফিকুল ইসলাম বলেন-দুই গ্রুপের মারামারির ঘটনায় রহিম নামে এক যুবক অভিযোগ দিয়েছেন,অপর গ্রুপ এখনো দেয়নি।
তবে রহিমের দেয়া অভিযোগের বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.