সীমান্তে গোলাগোলি/ টেকনাফ-সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল বন্ধ

গত দু’মাস ধরেই মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সে দেশের সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। চলমান এ সংঘর্ষের কারণে সামনের পর্যটন মৌসুমে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে জাহাজ চলাচল শুরুর আগেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে প্রশাসন। তাই চলতি অক্টোবরে জাহাজ চলাচল শুরু কথা থাকলেও তা ভেস্তে গেছে। এই নিয়ে এই রুটে চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকা জাহাজ মালিকরা চরম হতাশায় পড়েছেন।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এরফানুর হক জানিয়েছেন, অক্টোবরের শুরুতে জাহাজ চলাচলের কথা ছিল। কিন্তু সীমান্তের কাছে মিয়ানমারে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। আপাতত চলতি অক্টোবর মাস পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি না দেয়ার জন্য উপরের নির্দেশনা রয়েছে।

জাহাজ মালিকদের সংগঠন সী-ক্রোজ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (স্কোয়াব) সূত্রে জানা গেছে, এই মৌসুমে পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিন গমনের জন্য ১২টি জাহাজ প্রস্তুত করা হয়েছে। তার মধ্যে শুধুমাত্র টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে নয়টি। বাকি তিন বিশালাকার বিলাসবহুল ‘বে ওয়ান’ যাবে চট্টগ্রাম থেকে এবং অন্য দুই বিলাসবহুল জাহাজ ‘কর্ণফূলী এক্সপ্রেস’ ও ‘বার আউলিয়া’ চলাচল করবে কক্সবাজার বিআইডাব্লিউ ঘাট থেকে। তবে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে ছাড়া অপেক্ষায় থাকা এই তিন জাহাজের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি।

এই বিষয়ে সী-ক্রোজ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (স্কোয়াব) সভাপতি তোফায়েল আহমদ জানিয়েছেন, প্রথম অক্টোবর থেকে প্রতিবছর সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়। তা নিয়ে জাহাজ মালিকরা দুই মাস আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে প্রশাসনের অনুমতি পাওয়া চেষ্টা করেছে। কিন্তু মৌসুম শুরু হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকায় টেকনাফ রুটের জাহাজগুলোর চলাচলের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। তাই এগুলো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় না পড়লেও চট্টগ্রাম ও থেকে কক্সবাজার রুটে চলাচলেও অপেক্ষায় থাকা ‘বে ওয়ান’ ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ ও ‘বার আউলিয়া’র অক্টোবরে চলাচল শুরুর জন্য অনুমতি পায়নি। তবে দু’য়েক দিনের মধ্যে এই তিন জাহাজের চলাচলে অনুমতি পাবে বলে জানিয়েছেন জাহাজগুলোর কর্তৃপক্ষ। তাই কক্সবাজারে চলমান পর্যটন মেলায় বসানো স্টলে এই তিন জাহাজের টিকিট বিক্রি হচ্ছে। ইতিমধ্যে এক সপ্তাহের বেশির জন্য জাহাজের টিকিট বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাহাজগুলোর কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নয়টি জাহাজ যদি চলাচল করতে না পারে তাহলে পর্যটক পরিবহনে বড় ধরণের ঘাটতি তৈরি হবে। নয় জাহাজের সমপরিমাণ পর্যটক নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকা তিন জাহাজ পরিবহণ করতে পারবে না। এতে ৭০ শতাংশ আগ্রহী পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে পারবে না।

এই প্রসঙ্গে ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কক্সবাজারে (টুয়াক) এর সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, ‘কক্সবাজারে আয়োজিত পর্যটন উৎসব এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো থাকা প্রেক্ষিতে মনে হচ্ছে এই মৌসুমে কক্সবাজারে রেকর্ড পরিমাণ পর্যটক আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। যাদের প্রায় সবাই সেন্টমার্টিন যাওয়ার আগ্রহ করবে। কিন্তু নয়টি জাহাজ চলাচল না করলে অধিকাংশ পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে পারবে না। সেন্টামার্টিনের টিকেট না পেলে তারা কক্সবাজারেও আসবে না।’

ট্যুর অপারেটর ওনার্স এসোসিয়েশন অব কক্সবাজারে (টুয়াক) সাধারণ সম্পাদক আহমল হুদা বলেন, ‘নয়টি জাহাজ চলাচল করতে না পারলে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের জন্য বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করবে। তাই সীমান্ত সংক্রান্ত নিরাপত্তাজনিত কারণ ছাড়া অন্য কোনো কারণ হলে থাকলেও নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

এই বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান বলেন, ‘সব কিছুর আগে নিরাপত্তা। পর্যটকদের নিরাপত্তা শংকা মাথায় নিয়ে জাহাজ চলাচল করা আদৌ উচিত হবে না। তাই টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটের জাহাজ চলাচলে আপাতত নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। সীমান্তের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেটা শিথিল হতে পারে।’

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.