চট্টগ্রাম ব্যুরো: বীর মুক্তিযোদ্ধা চট্টগ্রামের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মো. নুরুল আলম মারা গেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর কঠিন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে যারা আওয়ামী লীগকে আঁকড়ে ধরে পুনরুজ্জীবীত করেছিলেন, নুরুল আলম তাদের একজন হিসেবে পরিচিত। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের পশ্চিম সারোয়াতলী গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
৭২ বছর বয়সী নুরুল আলম স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। তিনি বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।
তাঁর ছোট ভাই বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল আমিন চৌধুরী জানিয়েছেন, নূরুল আলম শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। ঢাকার একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় স্বাস্থ্যের অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪টায় তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রতীক সেন।
পাকিস্তান আমলে ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন নুরুল আলম। আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ ছিলেন। স্বাধীনতার আগেই বোয়ালখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বোয়ালখালীর কানুনগোপাড়ায় ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে স্যার আশুতোষ কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। এছাড়া উপজেলা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ‘রাজা মিয়া’ নামে তিনি বোয়ালখালীর আপামর মানুষের কাছে পরিচিত ছিলেন।
পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও বোয়ালখালীতে ছাত্রলীগকে নেতৃত্ব দেয়া মো. আব্দুল মোমিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অনেকে নিষ্ক্রিয় ছিলেন, অনেকে দল ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু নুরুল আলম ভাই এবং উনার পরিবারের সদস্যদের দেখেছি- আওয়ামী লীগকে আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন। আশুতোষ কলেজে এবং বোয়ালখালীতে তখন আমরা ছাত্রলীগকে সংগঠিত রেখেছিলাম। আর নুরুল আলম ভাইয়েরা হুমকি-ধমকি, নির্যাতনের পরোয়া না করে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়েছিলেন। তখন বোয়ালখালী অনেকটা দক্ষিণ চট্টগ্রামের হেডকোয়ার্টারের মতো ছিল। সেখানে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবীত করতে উনার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।’
নুরুল আলমের মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
এছাড়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, দক্ষিণ জেলার সভাপতি সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন, বোয়ালখালীর পৌর মেয়র জহুরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক মান্নান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার সকাল ১১টায় বোয়ালখালীর সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে প্রয়াত নুরুল আলমকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানো হবে। জোহরের নামাজের পর সারোয়াতলী ইব্রাহিম নূর মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।